“বাবা-মাকে বাঁচাতে ১৬০ কিলোমিটার! রোহিঙ্গা তরুণের অবিশ্বাস্য মানবিক যাত্রা”

বার্মার এক রোহিঙ্গা তরুণ নিজের বৃদ্ধ মা–বাবাকে নিয়ে ১৬০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এসেছিল বাংলাদেশে! হ্যাঁ, দুজনকেই, কারণ তাদের হাঁটার শক্তি ছিল না।

 

বাবার বয়স তখন ৮৫ বছর, আর মায়ের ৬৫। গ্রামে মিয়ানমারের সেনারা হামলা শুরু করলে সবাই বলেছিল, “তুমি চলে যাও, নিজের প্রাণ বাঁচাও।” কিন্তু ছেলেটি তাতে সায় দেয়নি, “বাবা-মাকে ফেলে আমি কোথাও যাব না।”

 

তারপর শুরু হলো তার সাত দিনের দীর্ঘ যাত্রা। খালি পায়ে হাঁটতে হলো ঘন বন-জঙ্গল পেরিয়ে, খাড়া পাহাড় বেয়ে, নদীর বুক চিরে। ঠিকমতো খাবার ছিল না, পানি প্রায় ছিল না বললেই চলে।

 

ক্লান্তিতে শরীর কাঁপতে থাকত তার, কখনো মনে হতো হয়তো আর পারবে না। তবুও হাল না ছেড়ে বাবা–মাকে নিয়ে এগিয়ে গিয়েছিল সে। ধীরে ধীরে একসময় সে বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে এসে পৌঁছায়, যে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্যই তার এত সংগ্রাম।

 

পরে কেউ তাকে একবার জিজ্ঞেস করেছিল, “তুমি তো একা পালিয়ে যেতে পারতে। কেন গেলে না?”ছেলেটি শান্তভাবে বলেছিল, “আমি হাঁটতে পারতাম না, তখন ওরাই তো আমাকে কোলে নিয়ে চলত। এখন আমার পালা।”

চরফ্যাশনে কো-ইড শিক্ষকদের যৌক্তিক দুই দফা দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা

ন্যায্য বেতন কাঠামো ও চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে মানববন্ধন ও অনশন কর্মসূচি পালন করছে ভোলার চরফ্যাশনের কো-অপারেশন ইন ডেভেলপমেন্ট (কো-ইড) পরিচালিত স্কুলগুলোর প্রায় ২০০ শিক্ষক-শিক্ষিকা।‎

সোমবার (২৪ নভেম্বর) সকাল ৯ টা থেকে চরফ্যাশন পৌরসভা ৬ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত কো-ইড বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয়ের সামনে কো-ইড শিক্ষক কল্যাণ চরফ্যাশন সমিতির আয়োজনে এ কর্মসূচি চলছে।‎আন্দোলনকারীদের মধ্যে চরফ্যাশন কো-ইড শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক আবু সাইদ ও যুগ্ম আহ্বায়ক সাবানা বেগম জানান, দীর্ঘদিন ধরে আমরা বৈষম্যমূলক বেতন কাঠামো ও চাকরির অনিশ্চয়তার মধ্যে দায়িত্ব পালন করে আসছি। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে গত ২৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে অস্ট্রেলিয়ার কো-ইড কর্তৃপক্ষের কাছে ১৪ টি দাবি জানানো হলেও কোনও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।‎ তারা আরও বলেন, ২৩ নভেম্বর রবিবার ন্যায্য বেতন কাঠামো ও চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য ২ দফা দাবি জানানো হলে ই-মেইলে কো-ইড অস্ট্রেলিয়ার জবাব অত্যন্ত হতাশাজনক হওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

যার জন্য আমরা অফিসের সামনে মানববন্ধন ও অনশনে বসেছি।‎১২নং কো-ইড স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা মুন্নী ও ২১ নং কো-ইড স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা খাদিজা বলেন, আমরা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরি করছি, অথচ আমাদের সম্মান ও অধিকার উপেক্ষা করা হচ্ছে।

ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা স্কুলে ফিরবো না, আন্দোলন চালিয়েই যাব।‎কো-ইড বাংলাদেশ চরফ্যাশন কার্যালয়ের সমন্বয়কারী মো. রিয়াজ হোসেন জানান, শিক্ষকদের দাবিগুলো উপরের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন।

টানা ৪০ দিন জামায়াতে নামাজ পড়ে ১৪ শিশু-কিশোর পেলো পুরস্কার

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে টানা ৪১ দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় করায় ১৪ শিশু-কিশোরকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) জুমার নামাজ শেষে উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের শাহ মুরাদ রহ. (প্রকাশ ফকিরটোলা) জামে মসজিদের মুসল্লিদের উদ্যোগে এ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

মসজিদ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোররা যদি টানা ৪১ দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় করতে পারে, তবে তাদের পুরস্কৃত করা হবে—এমন ঘোষণা দিয়েছিলেন মসজিদের ইমাম ও মুসল্লিরা।

ঘোষণাটি শিশু-কিশোরদের উৎসাহিত করে এবং তারা নিয়মিত জামাতে অংশ নিয়ে নির্ধারিত সময় পূর্ণ করে পুরস্কার অর্জন করে।

পুরস্কারের মধ্যে ছিল ক্রেস্ট, জায়নামাজ, ইসলামিক বই, মিসওয়াক, তাসবি, কলম ও টুপি।মসজিদের সভাপতি মাস্টার নূর উদ্দীন বলেন, “মসজিদের খতিব যে সুন্দর উদ্যোগ নিয়েছেন, তাকে অভিনন্দন জানাই।

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য গ্রামের যুবকরাও এভাবে নামাজের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারে।”ফকিরটোলা মসজিদের খতিব মাওলানা ফয়েজ উল্লাহ বলেন,

“আগামীর ভবিষ্যৎ যুব সমাজকে নামাজের প্রতি আগ্রহী করতে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এতে তারা অশালীন কাজ থেকে বিরত থেকে সঠিক পথে চলতে অনুপ্রাণিত হবে।”শিশু-কিশোরদের মসজিদমুখী করতে নেওয়া এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

স্থানীয়রা এই আয়োজনকে স্বাগত জানিয়েছেন।পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—খৈয়াছড়া ইউনিয়ন জামায়াতের সহসভাপতি খোরশেদ আলম,

ফকিরটোলা মসজিদের সাধারণ সম্পাদক রবিউল হোসেন বাবুল, খৈয়াছড়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসলাম খানসহ মসজিদের মুসল্লি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

নারী মর্যাদা ও নিরাপত্তায় ইসলামের পূর্ণ নিশ্চয়তা — হাফেজ রাশেদুল ইসলাম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বলায়েরচর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডে গতকাল (১৫ নভেম্বর) এক নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওয়ার্ড সভাপতি মাওলানা শাহাদাৎ হোসাইনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর সদর আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম। সমাবেশে হাফেজ রাশেদুল ইসলাম বলেন, “নারীর মর্যাদা নিশ্চিত করতে পৃথিবীর বিভিন্ন মতবাদ নানা প্রস্তাব রেখেছে, কিন্তু কোনো ব্যবস্থাই নারীর প্রকৃত উৎকর্ষ নিশ্চিত করতে পারেনি।

 একমাত্র ইসলামই নারীর পরিপূর্ণ মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়েছে।” তিনি অভিযোগ করে বলেন, দেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে যারা নারীর অধিকার নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন, তারা নিজেরাই এ বিষয়ে উদাসীন। তিনি দাবি করেন, “জামায়াতে ইসলামই দেশের একমাত্র রাজনৈতিক সংগঠন, যার অর্ধেক সদস্য নারী। অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে নারীর এমন অংশগ্রহণ নেই।” নারীর নিরাপত্তা প্রসঙ্গে রাশেদুল ইসলাম বলেন, “আল্লাহ নারীদের জন্য সর্বোচ্চ সম্মান, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নির্ধারণ করেছেন।

 কিন্তু কিছু রাজনৈতিক মহল নারীদের হেয় করার চেষ্টা করছে। জামায়াত ক্ষমতায় এলে নারীদের ঘরে আটকে রাখার কোনো নীতি নেই; বরং কর্মক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন একটি সমাজ চাই যেখানে রাতের আঁধারে একজন নারীও শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে—যেমনটি ছিল রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে।” শেরপুরে নারীদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এ জেলায় নারী শিক্ষার জন্য আধুনিক কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাও অত্যন্ত দুর্বল।

 ইউনিয়ন পর্যায় থেকে জেলা হাসপাতাল পর্যন্ত নারীদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই।” তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “আমি এমপি নির্বাচিত হলে শেরপুরে সবার জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে, বিশেষ করে নারীর স্বাস্থ্যসেবায় বড় পরিবর্তন আনা হবে।

 পাশাপাশি সকল নারীর জন্য প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে।” উচ্চশিক্ষা প্রসঙ্গে তিনি জানান, “শেরপুরে স্বতন্ত্র মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে, যেখানে নারীদের জন্য ১০০% আবাসন সুবিধা থাকবে এবং সকল শ্রেণির মানুষের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।” নারীর মর্যাদা ও ক্ষমতায়নে জামায়াতের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন,

“আমরা নারীদের এমন অবস্থান দিতে চাই, যেখানে তাদের সম্মান অক্ষুণ্ণ থাকবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্ণ সক্ষমতা বজায় থাকবে।” সমাবেশের শেষাংশে তিনি ভোটারদের ন্যায়পরায়ণতা ও বিবেকের ভিত্তিতে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমার ভোট আমি দেবো—এ নীতিতে নয়; বরং যাঁরা ন্যায়, সত্যবাদিতা, তাকওয়া ও আমানতদারীতায় অটল, তাঁদেরকেই ভোট দিন।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী নির্বাচনে জনগণের সহযোগিতা পেলে শেরপুরে একটি আদর্শ, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলবেন।

‘আ. লীগ কর্মীদের’ না ছাড়ায় পুলিশের হাড়গোড় ভাঙার হুমকি যুবদল নেতার

(১৩ নভেম্বর): ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল থানায় পুলিশের ওপর অশ্রাব্য গালিগালাজ ও ‘হাড়গোড় ভেঙে দেওয়ার’ হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুবদল ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

বুধবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

জেলা পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং ইতোমধ্যে থানার পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার (এসপি) শেখ জাহিদুল ইসলাম। জানা যায়, মঙ্গলবার মধ্যরাতে বিশেষ অভিযানে আওয়ামী লীগের চার কর্মী-সমর্থক—হামিদুর রহমান (৬০), সারোয়ার নুর লিওন (৩২), খলিলুর রহমান (৫০) ও জিয়াউর রহমান (৪২)—কে গ্রেপ্তার করে রানীশংকৈল থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতদের থানায় আনার সময় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে দুইজনকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। পুলিশ তার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করলে পরদিন জাহিদুলের নেতৃত্বে ৩০-৩৫ জন নেতাকর্মী থানায় হাজির হন।

পরবর্তীতে জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি মো. নাজমুল হুদা মিঠু থানায় এসে নিজেকে হামিদুর ও সারোয়ারের আত্মীয় পরিচয় দেন এবং ওসিকে তাদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওসি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করলে মিঠু ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের গালিগালাজ করেন এবং হুমকি দেন “বাইরে গেলে ঠ্যাং ভেঙে দেব, কীভাবে চাকরি করেন দেখে নেব।” ওসি মুহাম্মদ আরশেদুল হক বলেন, “আমরা চারজন আওয়ামী লীগ কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছি, এজন্য যুবদল সভাপতি মিঠু আমাকে এবং অন্য কর্মকর্তাদের গালিগালাজ ও হুমকি দিয়েছেন।

বিষয়টি আমরা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।” অপরদিকে, নাজমুল হুদা মিঠু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি শুধু আমার ব্যবসায়ীক পার্টনারদের আটক বিষয়ে জানতে থানায় গিয়েছিলাম, কোনো হুমকি দেইনি।”

পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের এসপি শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, “থানায় এ ধরনের হুমকি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা জিডি করেছি এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। প্রয়োজনে কোর্টের আদেশ নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শেখ হাসিনার মামলার রায় সোমবার

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামী সোমবার (১৭ নভেম্বর)।বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ বৃহস্পতিবার এ মামলার রায়ের এই দিন ধার্য করেন।ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

শেখ হাসিনার পাশাপাশি এই মামলার অপর দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। এর মধ্যে সাবেক আইজিপি মামুন ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজসাক্ষী নামে পরিচিত) হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় প্রথম মামলাটি (মিসকেস বা বিবিধ মামলা) হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। গত বছরের ১৭ অক্টোবর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম বিচারকাজ অনুষ্ঠিত হয়। সেদিনই এ মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।প্রথম দিকে এ মামলায় শেখ হাসিনাই একমাত্র আসামি ছিলেন। চলতি বছরের ১৬ মার্চ এ মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে আসামি করার আবেদন করে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)। ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন।একাধিকবার সময় বাড়ানোর পর চলতি বছরের ১২ মে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

গত ১ জুন শেখ হাসিনাসহ এই তিন আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে প্রসিকিউশন। আনুষ্ঠানিক অভিযোগে এই তিন আসামির বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়।অভিযোগগুলো হলো—গত বছরের ১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান; হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশ প্রদান; রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা; রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পোড়ানোর অভিযোগ।এই পাঁচ অভিযোগে তিন আসামির বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান পলাতক। সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এ মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের দিন (১০ জুলাই) সাবেক আইজিপি মামুন গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজসাক্ষী) হওয়ার আবেদন করেন।গত ১২ অক্টোবর এ মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু হয়। যুক্তিতর্ক শেষ হয় ২৩ অক্টোবর। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ড চান চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। তিনি যুক্তিতর্কে এ মামলা থেকে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের খালাস আবেদন করেন। রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি মামুনেরও খালাস আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সেদিন (২৩ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল বলেন, এই মামলার রায় কবে দেওয়া হবে, তা ১৩ নভেম্বর জানানো হবে। সে অনুযায়ী আজ ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার তারিখ (১৭ নভেম্বর) ধার্য করলেন।