“বাবা-মাকে বাঁচাতে ১৬০ কিলোমিটার! রোহিঙ্গা তরুণের অবিশ্বাস্য মানবিক যাত্রা”

বার্মার এক রোহিঙ্গা তরুণ নিজের বৃদ্ধ মা–বাবাকে নিয়ে ১৬০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এসেছিল বাংলাদেশে! হ্যাঁ, দুজনকেই, কারণ তাদের হাঁটার শক্তি ছিল না।

 

বাবার বয়স তখন ৮৫ বছর, আর মায়ের ৬৫। গ্রামে মিয়ানমারের সেনারা হামলা শুরু করলে সবাই বলেছিল, “তুমি চলে যাও, নিজের প্রাণ বাঁচাও।” কিন্তু ছেলেটি তাতে সায় দেয়নি, “বাবা-মাকে ফেলে আমি কোথাও যাব না।”

 

তারপর শুরু হলো তার সাত দিনের দীর্ঘ যাত্রা। খালি পায়ে হাঁটতে হলো ঘন বন-জঙ্গল পেরিয়ে, খাড়া পাহাড় বেয়ে, নদীর বুক চিরে। ঠিকমতো খাবার ছিল না, পানি প্রায় ছিল না বললেই চলে।

 

ক্লান্তিতে শরীর কাঁপতে থাকত তার, কখনো মনে হতো হয়তো আর পারবে না। তবুও হাল না ছেড়ে বাবা–মাকে নিয়ে এগিয়ে গিয়েছিল সে। ধীরে ধীরে একসময় সে বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে এসে পৌঁছায়, যে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্যই তার এত সংগ্রাম।

 

পরে কেউ তাকে একবার জিজ্ঞেস করেছিল, “তুমি তো একা পালিয়ে যেতে পারতে। কেন গেলে না?”ছেলেটি শান্তভাবে বলেছিল, “আমি হাঁটতে পারতাম না, তখন ওরাই তো আমাকে কোলে নিয়ে চলত। এখন আমার পালা।”

ধর্মের নামে বাংলাদেশে আর রাজনীতি করা চলবে না: জয়নুল আবদিন ফারুক

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, যে মুহূর্তে বাংলাদেশ একটি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই একটি রাজনৈতিক দল— যারা ৫৫ বছর আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল, যারা মায়ের বুক খালি করেছিল, আজকে আবার তারা ধর্মের নামে আমাদের মা-বোনদের ঘরে ঘরে গিয়ে বলছে, অমুক মার্কায় ভোট দিলে বেহেশত যাবেন।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) বিকালে নোয়াখালী সেনবাগ উপজেলার কুতুবের হাট-বাজারে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য এক দোয়ার অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, এ ধরনের কথা ইসলাম ধর্মের সত্য কথা নয়। ইসলাম ধর্ম এমন একটি ধর্ম, যা বিশ্বের দরবারে শ্রেষ্ঠ ধর্ম। তাই ধর্মের নামে বাংলাদেশে আর রাজনীতি করা চলবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘কারণ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছে এমন নেতা এখানে আছেন। আমরা অনেক মুক্তিযোদ্ধা আছি, আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। আমরা চাই স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ সব ক্ষেত্রে মানুষ যেন সচ্ছলভাবে জীবন যাপন করতে পারে।’জয়নুল বলেন, ‘আগামীতে যারা ধর্মের নামে ব্যবসা করছে, তাদের রুখতে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যের ভিত্তিতে গড়ে তুলুন।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, আপনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সুস্থ করে দিন।’তিনি বলেন, ‘কেউ আমাকে পছন্দ করুক বা না করুক, আমি মনে করি শহীদ জিয়ার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে যিনিই আসবেন, তাকে ভোট দেয়া আমাদের কর্তব্য। আমাদের মধ্যে হয়তো মতপার্থক্য থাকতে পারে, নেতৃত্বের গুণাগুণ নিয়ে ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু ধানের শীষ নিয়ে কোনো আপস নেই।’

হজরত মুহাম্মদ (সা.) কে কটূক্তির অভিযোগে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী আটক

সরকারি তিতুমীর কলেজে হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে কটূক্তির অভিযোগে এক শিক্ষার্থীকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে শিক্ষার্থীরা। আটক শিক্ষার্থীর নাম বিশ্বজিৎ চন্দ্র বর্মন। তিনি কলেজের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের (২০২৩–২৪) সেশনের শিক্ষার্থী।

আজ বুধবার (২৬ নভেম্বর) দুপুর ১ টার দিকে কলেজে এই ঘটনা ঘটে। জানা যায়, ‘ফারিহা আক্তার’ নামে একটি ফেইক ফেসবুক আইডি ‘শাহ মাহমুদ’ নামে আরেক ফেসবুক অ্যাকাউন্টের একটি পোস্টের নিচে মন্তব্য করেন।

ওই মন্তব্যে নবী মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে কটূক্তি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে ‘ফারিহা আক্তার’ নামের ফেইক আইডিটি বিশ্বজিৎ চন্দ্র বর্মনের ব্যবহৃত বলে সনাক্ত হয়। ওই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

পরে শিক্ষার্থীরা তাকে ক্যাম্পাসে আটক করে এবং ঘটনাটি কলেজ প্রশাসনকে অবহিত করে। পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এইদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী কলেজ প্রশাসনের উপস্থিতিতে নিজের ভুল স্বীকার করেছে।

এই বিষয়ে তিতুমীর কলেজের (২৩–২৪) সেশনের শিক্ষার্থী তাওহীদ আহমেদ রাজন বলেন, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য এবং মুসলিম নারীদের পোশাক ও আচরণ সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

এ ধরনের বক্তব্য শুধু ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে না, বরং নারী সম্প্রদায়ের মর্যাদাকেও ক্ষুণ্ন করে যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

কড়াইলের ভয়াবহ আগুনেও পুড়েনি পবিত্র কুরআনের হরফ

রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে বুধবার (২৫ নভেম্বর) ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনায় হাজারো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অক্ষত রয়েছে।

আগুনে বাসা-বাড়ি, দোকানপাট, পোষা সামগ্রী এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, তবে মসজিদ এবং পবিত্র কুরআনের হরফ অক্ষত রয়েছে, যা স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর কাছে স্বস্তির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও মসজিদটি আগুনের পথে না থাকার কারণে তা নিরাপদ থাকে। আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে আশেপাশের ঘরবাড়ি প্রায় পুরোপুরি পুড়ে গেছে, কিন্তু মসজিদ এবং কুরআনের কপি অক্ষত থাকে।

স্থানীয় কমিউনিটি ও ইসলামিক সংস্থা দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় এগিয়ে আসে এবং আগুনের ক্ষতির সময় মসজিদ ও ধর্মীয় সামগ্রী নিরাপদ স্থানে সরানোর ব্যবস্থা করে।

এ ঘটনায় এলাকার মানুষ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে আল্লাহর রহমত ও অদ্ভুত রক্ষা হিসেবে এই ঘটনাকে দেখছেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পুনর্বাসন এবং জরুরি সহায়তার দাবি উঠেছে।

চরফ্যাশনে কো-ইড শিক্ষকদের যৌক্তিক দুই দফা দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা

ন্যায্য বেতন কাঠামো ও চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে মানববন্ধন ও অনশন কর্মসূচি পালন করছে ভোলার চরফ্যাশনের কো-অপারেশন ইন ডেভেলপমেন্ট (কো-ইড) পরিচালিত স্কুলগুলোর প্রায় ২০০ শিক্ষক-শিক্ষিকা।‎

সোমবার (২৪ নভেম্বর) সকাল ৯ টা থেকে চরফ্যাশন পৌরসভা ৬ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত কো-ইড বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয়ের সামনে কো-ইড শিক্ষক কল্যাণ চরফ্যাশন সমিতির আয়োজনে এ কর্মসূচি চলছে।‎আন্দোলনকারীদের মধ্যে চরফ্যাশন কো-ইড শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক আবু সাইদ ও যুগ্ম আহ্বায়ক সাবানা বেগম জানান, দীর্ঘদিন ধরে আমরা বৈষম্যমূলক বেতন কাঠামো ও চাকরির অনিশ্চয়তার মধ্যে দায়িত্ব পালন করে আসছি। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে গত ২৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে অস্ট্রেলিয়ার কো-ইড কর্তৃপক্ষের কাছে ১৪ টি দাবি জানানো হলেও কোনও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।‎ তারা আরও বলেন, ২৩ নভেম্বর রবিবার ন্যায্য বেতন কাঠামো ও চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য ২ দফা দাবি জানানো হলে ই-মেইলে কো-ইড অস্ট্রেলিয়ার জবাব অত্যন্ত হতাশাজনক হওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

যার জন্য আমরা অফিসের সামনে মানববন্ধন ও অনশনে বসেছি।‎১২নং কো-ইড স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা মুন্নী ও ২১ নং কো-ইড স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা খাদিজা বলেন, আমরা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরি করছি, অথচ আমাদের সম্মান ও অধিকার উপেক্ষা করা হচ্ছে।

ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা স্কুলে ফিরবো না, আন্দোলন চালিয়েই যাব।‎কো-ইড বাংলাদেশ চরফ্যাশন কার্যালয়ের সমন্বয়কারী মো. রিয়াজ হোসেন জানান, শিক্ষকদের দাবিগুলো উপরের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন।

টানা ৪০ দিন জামায়াতে নামাজ পড়ে ১৪ শিশু-কিশোর পেলো পুরস্কার

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে টানা ৪১ দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় করায় ১৪ শিশু-কিশোরকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) জুমার নামাজ শেষে উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের শাহ মুরাদ রহ. (প্রকাশ ফকিরটোলা) জামে মসজিদের মুসল্লিদের উদ্যোগে এ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

মসজিদ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোররা যদি টানা ৪১ দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় করতে পারে, তবে তাদের পুরস্কৃত করা হবে—এমন ঘোষণা দিয়েছিলেন মসজিদের ইমাম ও মুসল্লিরা।

ঘোষণাটি শিশু-কিশোরদের উৎসাহিত করে এবং তারা নিয়মিত জামাতে অংশ নিয়ে নির্ধারিত সময় পূর্ণ করে পুরস্কার অর্জন করে।

পুরস্কারের মধ্যে ছিল ক্রেস্ট, জায়নামাজ, ইসলামিক বই, মিসওয়াক, তাসবি, কলম ও টুপি।মসজিদের সভাপতি মাস্টার নূর উদ্দীন বলেন, “মসজিদের খতিব যে সুন্দর উদ্যোগ নিয়েছেন, তাকে অভিনন্দন জানাই।

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য গ্রামের যুবকরাও এভাবে নামাজের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারে।”ফকিরটোলা মসজিদের খতিব মাওলানা ফয়েজ উল্লাহ বলেন,

“আগামীর ভবিষ্যৎ যুব সমাজকে নামাজের প্রতি আগ্রহী করতে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এতে তারা অশালীন কাজ থেকে বিরত থেকে সঠিক পথে চলতে অনুপ্রাণিত হবে।”শিশু-কিশোরদের মসজিদমুখী করতে নেওয়া এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

স্থানীয়রা এই আয়োজনকে স্বাগত জানিয়েছেন।পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—খৈয়াছড়া ইউনিয়ন জামায়াতের সহসভাপতি খোরশেদ আলম,

ফকিরটোলা মসজিদের সাধারণ সম্পাদক রবিউল হোসেন বাবুল, খৈয়াছড়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসলাম খানসহ মসজিদের মুসল্লি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বহিষ্কৃত ও পদত্যাগ করা ২৮ নেতাকে দলে ফেরাল বিএনপি

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নীতি-আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সারাদেশে ২৮ নেতার বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশ ও পদ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সোমবার (১৭ নভেম্বর) দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইতোপূর্বে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কার্যকলাপের জন্য গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. তানভীর আহম্মেদ, মহানগর বিএনপির সাবেক অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মো. ছবদের হাসান, মহানগর বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক মাহবুবুর রশিদ খান শিপু, সাবেক সদস্য মো. আবুল হাশেম, খায়রুল আলম, মো. মনির হোসেন (মাটি মুনির); গাজীপুর মহানগরের বাসন মেট্রো থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন মনির, বাসন থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোসলেম উদ্দিন চৌধুরী মুসা, বাসন থানার অন্তর্গত ১৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম রাতা, গাজীপুর মেট্রো থানা বিএনপির সাবেক সদস্য আনোয়ার সরকার, ১১, ১২, ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফিরোজা আক্তার এবং ২৮, ২৯ ও ৩০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসিনা আক্তার বীথি, ৩৪ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মো. মাহাফুজুর রহমান, ১৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহীন আলম, ১১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাড. আলম; বরিশাল দক্ষিণ জেলাধীন বাকেরগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম মৃধা, দিনাজপুর জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মো. রেজওয়ানুল ইসলাম রিজু, কুমিল্লা উত্তর জেলাদীন মেঘনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. রমিজ উদ্দিন লন্ডনী, যুগ্ম আহ্বায়ক দিলারা শিরিন, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনিপর সাবেক সহ-স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম জুয়েল, নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সহ-সভাপতি এস এম আসলাম, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক টি এইচ তোফা, হবিগঞ্জ জেলাধীন চুনারুঘাট উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ লিয়াকত হাসান, সিরাজগঞ্জ জেলাধীন বেলকুচি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক মন্ডল, টাঙ্গাইল জেলাধীন মির্জাপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল- মামুন সিদ্দিকী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাধীন ভোলাহাট উপজেলা বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ মো. কামাল উদ্দিন, ছাতক উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মো. ইজাজুল হক রনিকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। আবেদনের প্রেক্ষিতে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক আজ তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে প্রাথমিক সদস্য পদ ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ইতোপূর্বে হবিগঞ্জ জেলাধীন চুনারুঘাট উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ লিয়াকত হাসান স্বেচ্ছায় দল থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে তার পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কার্যকলাপের জন্য দিনাজপুর জেলাধীন ফুলবাড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ মো. খুরশিদ আলমের (মতি) স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে বিএনপির স্বপদে বহাল করা হয়েছে।

নারী মর্যাদা ও নিরাপত্তায় ইসলামের পূর্ণ নিশ্চয়তা — হাফেজ রাশেদুল ইসলাম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বলায়েরচর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডে গতকাল (১৫ নভেম্বর) এক নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওয়ার্ড সভাপতি মাওলানা শাহাদাৎ হোসাইনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর সদর আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম। সমাবেশে হাফেজ রাশেদুল ইসলাম বলেন, “নারীর মর্যাদা নিশ্চিত করতে পৃথিবীর বিভিন্ন মতবাদ নানা প্রস্তাব রেখেছে, কিন্তু কোনো ব্যবস্থাই নারীর প্রকৃত উৎকর্ষ নিশ্চিত করতে পারেনি।

 একমাত্র ইসলামই নারীর পরিপূর্ণ মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়েছে।” তিনি অভিযোগ করে বলেন, দেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে যারা নারীর অধিকার নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন, তারা নিজেরাই এ বিষয়ে উদাসীন। তিনি দাবি করেন, “জামায়াতে ইসলামই দেশের একমাত্র রাজনৈতিক সংগঠন, যার অর্ধেক সদস্য নারী। অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে নারীর এমন অংশগ্রহণ নেই।” নারীর নিরাপত্তা প্রসঙ্গে রাশেদুল ইসলাম বলেন, “আল্লাহ নারীদের জন্য সর্বোচ্চ সম্মান, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নির্ধারণ করেছেন।

 কিন্তু কিছু রাজনৈতিক মহল নারীদের হেয় করার চেষ্টা করছে। জামায়াত ক্ষমতায় এলে নারীদের ঘরে আটকে রাখার কোনো নীতি নেই; বরং কর্মক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন একটি সমাজ চাই যেখানে রাতের আঁধারে একজন নারীও শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে—যেমনটি ছিল রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে।” শেরপুরে নারীদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এ জেলায় নারী শিক্ষার জন্য আধুনিক কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাও অত্যন্ত দুর্বল।

 ইউনিয়ন পর্যায় থেকে জেলা হাসপাতাল পর্যন্ত নারীদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই।” তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “আমি এমপি নির্বাচিত হলে শেরপুরে সবার জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে, বিশেষ করে নারীর স্বাস্থ্যসেবায় বড় পরিবর্তন আনা হবে।

 পাশাপাশি সকল নারীর জন্য প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে।” উচ্চশিক্ষা প্রসঙ্গে তিনি জানান, “শেরপুরে স্বতন্ত্র মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে, যেখানে নারীদের জন্য ১০০% আবাসন সুবিধা থাকবে এবং সকল শ্রেণির মানুষের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।” নারীর মর্যাদা ও ক্ষমতায়নে জামায়াতের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন,

“আমরা নারীদের এমন অবস্থান দিতে চাই, যেখানে তাদের সম্মান অক্ষুণ্ণ থাকবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্ণ সক্ষমতা বজায় থাকবে।” সমাবেশের শেষাংশে তিনি ভোটারদের ন্যায়পরায়ণতা ও বিবেকের ভিত্তিতে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমার ভোট আমি দেবো—এ নীতিতে নয়; বরং যাঁরা ন্যায়, সত্যবাদিতা, তাকওয়া ও আমানতদারীতায় অটল, তাঁদেরকেই ভোট দিন।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী নির্বাচনে জনগণের সহযোগিতা পেলে শেরপুরে একটি আদর্শ, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলবেন।

‘আ. লীগ কর্মীদের’ না ছাড়ায় পুলিশের হাড়গোড় ভাঙার হুমকি যুবদল নেতার

(১৩ নভেম্বর): ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল থানায় পুলিশের ওপর অশ্রাব্য গালিগালাজ ও ‘হাড়গোড় ভেঙে দেওয়ার’ হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুবদল ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

বুধবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

জেলা পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং ইতোমধ্যে থানার পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার (এসপি) শেখ জাহিদুল ইসলাম। জানা যায়, মঙ্গলবার মধ্যরাতে বিশেষ অভিযানে আওয়ামী লীগের চার কর্মী-সমর্থক—হামিদুর রহমান (৬০), সারোয়ার নুর লিওন (৩২), খলিলুর রহমান (৫০) ও জিয়াউর রহমান (৪২)—কে গ্রেপ্তার করে রানীশংকৈল থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতদের থানায় আনার সময় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে দুইজনকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। পুলিশ তার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করলে পরদিন জাহিদুলের নেতৃত্বে ৩০-৩৫ জন নেতাকর্মী থানায় হাজির হন।

পরবর্তীতে জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি মো. নাজমুল হুদা মিঠু থানায় এসে নিজেকে হামিদুর ও সারোয়ারের আত্মীয় পরিচয় দেন এবং ওসিকে তাদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওসি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করলে মিঠু ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের গালিগালাজ করেন এবং হুমকি দেন “বাইরে গেলে ঠ্যাং ভেঙে দেব, কীভাবে চাকরি করেন দেখে নেব।” ওসি মুহাম্মদ আরশেদুল হক বলেন, “আমরা চারজন আওয়ামী লীগ কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছি, এজন্য যুবদল সভাপতি মিঠু আমাকে এবং অন্য কর্মকর্তাদের গালিগালাজ ও হুমকি দিয়েছেন।

বিষয়টি আমরা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।” অপরদিকে, নাজমুল হুদা মিঠু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি শুধু আমার ব্যবসায়ীক পার্টনারদের আটক বিষয়ে জানতে থানায় গিয়েছিলাম, কোনো হুমকি দেইনি।”

পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের এসপি শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, “থানায় এ ধরনের হুমকি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা জিডি করেছি এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। প্রয়োজনে কোর্টের আদেশ নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সালাতুল ইসতিসকার পর বৃষ্টিতে ভাসল মক্কা-মদিনা

সৌদি আরবে বৃষ্টি কামনার বিশেষ নামাজ সালাতুল ইসতিসকা অনুষ্ঠিত হওয়ার পরপরই নামল কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি। শুক্রবার প্রবল বর্ষণ হয় মদিনায়। শনিবার মক্কায়ও ভারী বর্ষণ হয়।

বৃষ্টির পরই প্রতিকূল আবহাওয়ার সর্বোচ্চ সতর্কতা দিয়েছে সৌদি জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম)।সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজের আহ্বানে বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে মসজিদগুলোতে বৃষ্টি কামনার বিশেষ নামাজ সালাতুল ইসতিসকা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে একই উদ্দেশ্যে কুয়েত, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতেও মুসল্লিরা বিশেষ নামাজ আদায় করেছিলেন।বর্তমানে মক্কা, মদিনা, রিয়াদ ও আসিরসহ সৌদির বিভিন্ন অঞ্চলে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে।

সৌদি জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র মদিনায় এবং এর ফলে জীবন ও সম্পত্তির জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। জন্য লাল সতর্কতা এবং মক্কার জন্য তীব্র আবহাওয়ার সতর্কতা জারি করেছে। শিলাবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও বজ্রপাতের আশঙ্কায় বাসিন্দা ও ওমরাহ পালনকারীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সূত্র: খালিজ টাইমস।