আল্লাহর বন্ধুত্ব কোনো দাবির বিষয় নয়। আর যাকে-তাকে ‘আল্লাহর বন্ধু’ বললেই সে আল্লাহর বন্ধু হয়ে যায় না। বরং সে শয়তানের বন্ধুও হতে পারে। যাদেরকে ‘আল্লাহর বন্ধু’ বলা হয়, তাদের মাঝে এমনও আছেন যারা মুত্তাকি নয় এবং মুমিনও নয়- যেমন জাদুকর, গণক এবং এমনও আছেন যাদের থেকে অলৌকিক ও অস্বাভাবিক ঘটনা প্রকাশ পায়, কিন্তু তারা সালাত আদায় করে না, আল্লাহতায়ালাকে ভয় করে না এবং বলে যে, তাদের ওপর কোনো শরিয়াহর বিধান প্রযোজ্য নয়।
কারণ তারা ‘আল্লাহর বন্ধু’, তারা আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছে গেছে এবং তাদের আর আমলের প্রয়োজন নেই। এই লোকেরা আল্লাহর বন্ধু নয়। মানুষ তাদেরকে আল্লাহর বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে, অথচ তারা শয়তানের বন্ধু। কারণ যারা শয়তানের অনুসরণ করে, তারা তো শয়তানেরই বন্ধু। আল্লাহতায়ালা বলেন, আর যারা কুফরি করে তাদের বন্ধু হচ্ছে তাগুত। তারা তাদেরকে আলো থেকে বের করে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। (সুরা বাকারাহ, ২৫৭)। আল্লাহর শত্রুদেরকে তাঁর বন্ধু হিসেবে গণ্য করা একটি মারাত্মক ভুল এবং আল্লাহর সঙ্গে বিদ্রোহের শামিল।
অতএব, আল্লাহর বন্ধুকে চেনার জন্য চূড়ান্ত মাপকাঠি হলো মুমিন-মুত্তাকি হওয়া। একজন মুত্তাকি কখনো এটা পছন্দ করবেন না যে, আল্লাহকে বাদ দিয়ে তার ইবাদত করা হোক। বরং তিনি মানুষকে আল্লাহর একত্ববাদের দিকেই আহ্বান করেন। বিপরীতে, যে ব্যক্তি মানুষকে তার নিজের ইবাদত, সম্মান ও বড়াই করার আদেশ দেয়, সে শয়তানের বন্ধু। আর শয়তানের বন্ধুদের ব্যাপারে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘তারাই জাহান্নামের অধিবাসী, তারা সেখানে চিরকাল থাকব।’ (সুরা বাকারা, ২৫৭)
আল্লাহর বন্ধু যেমন আছে, তেমনি শয়তানের বন্ধুও আছে। তাই কাউকে ‘আল্লাহর বন্ধু’ বললে, কিংবা তার কবরকে মাজার বানালেই সে আল্লাহর ‘আল্লাহর বন্ধু’ হয়ে যায় না। সে শত্রুও হতে পারে। তা ছাড়া সত্যিকারের ‘আল্লাহর বন্ধু’ও ইবাদতের যোগ্য নন। আমরা কারও ব্যাপারে নিশ্চিত বলি না সে ‘আল্লাহর বন্ধু’, আবার কারও ব্যাপারে নিশ্চিত বলি না সে জাহান্নামি। হ্যাঁ, যাদের সম্পর্কে কোরআন ও হাদিসে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য আছে, তারাই আল্লাহর বন্ধু।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক
