পৃথিবীর সব মুমিনের ইমানি শক্তি বা আমলের পাল্লা সমান নয়। পবিত্র কুরআনের বর্ণনায় মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর কিতাবের উত্তরাধিকারী মুমিন বান্দাদের কর্মের ওপর ভিত্তি করে তিনটি প্রধান স্তরে বিভক্ত করেছেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, দয়ালু প্রভু এই তিন শ্রেণির কাউকেই তাঁর রহমত থেকে দূরে ঠেলে দেননি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই বিশাল জনসমুদ্রে নিজের অবস্থানটি আমরা কতটুকু জানি? নিজের ইমান ও আমলকে পরখ করার জন্য আল্লাহর দেওয়া সেই নিখুঁত মানদণ্ড কী? আর বিশেষ সেই তিন শ্রেণি মুমিনের কোন কাতারে আমি আপনি আছি?
এক. জালিম মুমিন: যিনি গুনাহে লিপ্ত হয়েছে, কিন্তু শিরকে নন। তার বিষয়টি আল্লাহর ইচ্ছাধীন। আল্লাহ চাইলে তাকে ক্ষমা করে দেবেন, অথবা শাস্তি দেবেন। কিন্তু পরিশেষে তার ঠিকানা হবে জান্নাত, যদিও শাস্তির পর সে জান্নাতে প্রবেশ করে।
দুই. মধ্যপন্থি ঈমানদার: উক্ত হাদিসে মূলত এই শ্রেণির কথাই বলা হয়েছে-যিনি ফরজ কাজগুলো করেছেন, নফল বা অতিরিক্ত কিছু করেননি, হারাম থেকে নিজেকে রক্ষা করেছেন, আর হালাল ও মুবাহ জিনিসেই সন্তুষ্ট থেকেছেন।
তিন. সওয়াবর প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকা ঈমানদার: যিনি ফরজ-ওয়াজিব আদায়ের পাশাপাশি নফল ইবাদাতেও অগ্রগামী এবং হারাম ও মাকরুহ বিষয় থেকে বেঁচে থাকেন, এমনকি সতর্কতাবশত কিছু মুবাহ বা বৈধ বিষয়ও পরিহার করেন। এটিই মুমিনদের সর্বোচ্চ স্তর। আল্লাহতায়ালা বলেন, অতঃপর তাদের কেউ নিজের ওপর জুলুমকারী, কেউ মধ্যমপন্থি এবং কেউ আল্লাহর ইচ্ছায় কল্যাণের পথে অগ্রগামী। (সুরা ফাতির, ৩২)
সব ঈমানদারই এই তিনটি শ্রেণির একটির অন্তর্ভুক্ত। এবং তারা সবাই জান্নাতেই প্রবেশ করবে।আল্লাহতায়ালা বলেন, তারা প্রবেশ করবে চিরস্থায়ী জান্নাতে। সেখানে তাদেরকে স্বর্ণ ও মুক্তার কঙ্কণ দ্বারা অলংকৃত করা হবে এবং তাদের পোশাক হবে রেশমের। (সুরা ফাতির, ৩৩)
সুতরাং, যে ব্যক্তি নিজের ওপর জুলুমকারী, এমনকি সেও পরিশেষে জান্নাতে প্রবেশ করবে, যতক্ষণ পর্যন্ত সে শিরক ও কবিরাহ গুনাহ থেকে মুক্ত থাকে। সেও জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত। হয় আল্লাহ তাকে নিজ করুণায় ক্ষমা করে দেবেন, নতুবা জাহান্নামের আগুনে তার পাপমোচন করে পবিত্র করার পর জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।
