শিরোনাম: ⦿ আসামে কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ অন্ধকার: মাওলানা বদরুদ্দিন আজমল ⦿ খাদে পড়ল হিন্দু ধর্মাবলম্বীর বিয়ের বাস, উদ্ধার করলেন মসজিদের মুসল্লিরা ⦿ আবুবকরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে দোয়া চাইলেন নাজমুল হাসান সুমন ⦿ ৬ মাসে কোরআনের হাফেজ হলো ১০ বছরের সিদ্দিক ⦿ তুরস্কের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের ⦿ আ.লীগের হামলায় বিএনপির ২ কর্মী নিহত ⦿ ম’রণা’প’ন্ন শি’শুকে নামিয়ে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে বেড়াতে গেলেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ⦿ নামাজরত শিক্ষার্থীদের পাহারা দিচ্ছে হিন্দু সহপাঠীরা ⦿ আ.লীগের পুনর্বাসনের প্রতিবাদ করায় ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার ⦿ নড়াইলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ৪

বেতন ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালার নতুন গেজেট প্রকাশ

দেশের সব মসজিদের সুশৃঙ্খল পরিচালনা এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ কর্মরত ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষায় ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৫’ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় এটি প্রকাশ করা হয়।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গঠিত একটি কমিটি দীর্ঘ পর্যালোচনা ও প্রখ্যাত আলেম-ওলামা ও ইমাম-খতিবদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক মতবিনিময় সভার পর নীতিমালাটি চূড়ান্ত করেছে। এসব সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। নতুন এই নীতিমালা জারির মাধ্যমে ২০০৬ সালের আগের নীতিমালাটি রহিত করা হয়েছে।

নতুন নীতিমালায় খতিব ছাড়া মসজিদের অন্যান্য জনবলের জন্য জাতীয় বেতন স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্রেডভিত্তিক বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে। সিনিয়র পেশ ইমাম ৫ম গ্রেড। পেশ ইমাম ৬ষ্ঠ গ্রেড। ইমাম ৯ম গ্রেড। প্রধান মুয়াজ্জিন ও মুয়াজ্জিন যথাক্রমে ১০ম ও ১১তম গ্রেড। প্রধান খাদিম ও খাদিম যথাক্রমে ১৫তম ও ১৬তম গ্রেড।

তবে খতিবের বেতন নির্ধারিত হবে মসজিদ কমিটির সঙ্গে চুক্তিপত্রের শর্তানুসারে। আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও পাঞ্জেগানা মসজিদের ক্ষেত্রে সামর্থ্য অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে।

নীতিমালায় কর্মরত ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নয়নে বেশ কিছু যুগান্তকারী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মসজিদের সামর্থ্য অনুযায়ী কর্মরতদের সপরিবারে আবাসনের ব্যবস্থা করতে কমিটিকে বলা হয়েছে। কমিটির অনুমোদনে প্রতি মাসে ৪ দিন সাপ্তাহিক ছুটি ভোগ করা যাবে। এছাড়া বছরে ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি এবং প্রতি ১২ দিনের কাজের বিপরীতে এক দিন অর্জিত ছুটির বিধান রাখা হয়েছে। ভবিষ্যৎ তহবিল ও সম্মাননা; কর্মরতদের ভবিষ্যৎ কল্যাণে মাসিক সঞ্চয় এবং চাকরি শেষে এককালীন সম্মাননা প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এখন থেকে মসজিদের কোনো পদে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া যাবে না। নিয়োগের জন্য একটি সাত সদস্যবিশিষ্ট বাছাই কমিটি থাকবে। নিয়োগের সময় বেতন-ভাতা ও দায়িত্ব উল্লেখ করে আনুষ্ঠানিক নিয়োগপত্র প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এছাড়া মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে ১৫ জন করা হয়েছে। তবে মসজিদের আয় ও অবস্থানভেদে এই সংখ্যা কম-বেশি হতে পারে। নতুন নীতিমালায় নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদও সৃষ্টি করা হয়েছে।

মসজিদগুলোতে নারীদের জন্য শরিয়তসম্মত পৃথক নামাজের স্থান বা কক্ষ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, চাকরির বিষয়ে কোনো বিরোধ তৈরি হলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি ৩০ দিনের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বা সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আপিল করতে পারবেন। নীতিমালা বাস্তবায়নে কোনো জটিলতা দেখা দিলে তা নিরসনে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি কাজ করবে।

Scroll to Top