শিরোনাম: ⦿ মায়ের পচা-গলা লাশ উদ্ধার; একই বাসায় থেকেও জানতেন না মেয়ে, খবর রাখেনি ছেলেরা ⦿ বাবাকে ‘চাপ দিয়ে’ কেনা মোটরসাইকেল কাড়লো ছেলের প্রাণ ⦿ এবার মন্ত্রীকে ‘প্রিয় নবী’ বলে সমালোচনায় ফেনী জেলা পরিষদ প্রশাসক ⦿ একই ইউনিয়ন থেকে দুই মরদেহ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য ⦿ ইরানে যুদ্ধে আমাদের যাওয়া উচিত হয়নি: ট্রাম্প ⦿ মোদিকে গুন্ডা বলায় উত্তরপ্রদেশে মুসলিম বৃদ্ধ গ্রেফতার ⦿ ঈদের দ্বিতীয় দিনেও চলছে পশু কুরবানি ⦿ ভারতে ঈদগাহে নামাজের অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে না, আতঙ্কে মুসলিমরা ⦿ আদ-দ্বীনে ৬ নবজাতকের মৃত্যু, কারণ জানতে তদন্তে সিআইডি ⦿ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালে

মায়ের পচা-গলা লাশ উদ্ধার; একই বাসায় থেকেও জানতেন না মেয়ে, খবর রাখেনি ছেলেরা

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে একটি ফ্ল্যাট থেকে নূর জাহান বেগম (৭৫) নামের এক বৃদ্ধার পচা-গলা এবং পোকায় ধরা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই ফ্ল্যাটের পাশের রুমে মেয়ে থাকলেও তিনি মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি জানতেন না। এমনকি প্রতিষ্ঠিত দুই ছেলেও দীর্ঘদিন ধরে মায়ের কোনো খোঁজ রাখেননি।

 

গত রবিবার (১ জুন) জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে ওই ফ্ল্যাট থেকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত নারীর মেয়ে বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন।

 

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বশির দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, ওই বৃদ্ধা কবে মারা গেছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে মরদেহ পঁচে পোকায় ধরে গিয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি স্বাভাবিকভাবেই মারা গেছেন। তারপরও মৃত্যুর সঠিক কারণ ও সময় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে জানা যাবে।

 

তিনি বলেন, ‘মা-মেয়ে একই বাসায় ছিল। দুই ছেলে আলাদা থাকতো এবং মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। মেয়েকে মানসিকভাবে অসুস্থ মনে হয়েছে। রোববার ওই বৃদ্ধাকে দেখাশোনার জন্য একজন নার্সকে ডাকা হয়। তিনি এসে দেখেন ওই বৃদ্ধা আরো অনেকদিন আগে মারা গেছে। পরে তিনি জাতীয় জরুরী সেবা নাম্বারে কল করলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।’

 

ওসি আরও জানান, ওই বাসা পুরো নোংরা ছিল। পুরো ডাস্টবিনের মতো। এর মধ্যেই ওই বৃদ্ধার মৃতদেহ বিছানার ওপর পড়ে ছিল।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত নূর জাহান বেগমের তিন সন্তানই সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত। তার বড় ছেলে সরকারের একজন যুগ্ম সচিব, মেজো ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং মেয়ে একটি স্কুলের শিক্ষিকা। তিন সন্তান প্রতিষ্ঠিত হলেও তারা কেউ বৃদ্ধা মায়ের খোঁজ রাখতেন না। এমনকি একই ফ্ল্যাটে থেকেও স্কুলশিক্ষিকা মেয়ে মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি কাউকে জানাননি।

 

পরিবারের সদস্যদের আচরণের বিষয়ে ওসি হাসান বশির বলেন, পরিবারের অন্য সদস্যরাও কিছুটা অস্বাভাবিক। তিনি বলেন, ‘আমি তার যে ছেলে বুয়েটের টিচার তাকে জিজ্ঞাসা করলাম আপনার বড় ভাইয়ের নাম্বার দেন। তিনি আমাকে একটা সিটিসেল নাম্বার বের করে দিয়েছেন। অথচ সিটিসেল অনেক আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। তার মানে ভাইয়ের সাথে ভাইয়ের যোগাযোগ নেই।’

Scroll to Top