Categories
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

গরু পালনে স্বাবলম্বী চর ধলেশ্বরীর ২ শতাধিক পরিবার!


গরু পালনে স্বাবলম্বী চর ধলেশ্বরীর ২ শতাধিক পরিবার!

গ্রাম চর ধলেশ্বরী। যা নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী নদীর মাঝে গড়ে উঠেছে। পাশে নদী হওয়ায় এখানকার অধিকাংশ মানুষই মৎস্যজীবী। তারা মাছ ধরেই জীবন ধারন করেন। তবে বর্তমানে এই চরের অনেকেই গবাদিপশু পালনে ঝুঁকছেন। নিজেদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি স্বাবলম্বী হয়েছেন তারা।

সরেজমিনে চর ধলেশ্বরীতে গিয়ে জানা যায়, এই চরে প্রায় ৬‘শত পরিবারের বসবাস। মৎস্য শিকার করেই এই চরের মানুষ তাদের জীবন জীবিকা নির্বাহ করেন। আর এই চরে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হলো ডিঙি নৌকা। বর্তমানে এই চরের প্রায় ২শত পরিবার গবাদিপশু পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। ঘাস, খড়েরর পাশাপাশি পশুকে দানাদার খাবারও খাওয়ান তারা। সরকারি সহায়তা পেলে প্রাণিসম্পদকেও সমৃদ্ধ করতে পারবেন বলে বিশ্বাস করেন তারা।

চর ধলেশ্বরীর বাসিন্দা আব্দুল হক বলেন, আমি এই চরে ৩৫ বছর যাবত বসবাস করছি। শুরুতে সবার মতো মাছ শিকার করে সংসার চালাতাম। এখন গরুর খামার করে আমাদের জীবন বদলে গেছে। গরু পালন করে বর্তমানে আমার গরুর বড় দুটি শেড, বায়োগ্যাস প্লান্ট ও জমিজমা হয়েছে। পাশাপাশি আমার এক ছেলেকে বিদেশও পাঠিয়েছি।

আব্দুল হক আরো বলেন, মাত্র ২টি গরু দিয়ে শুরু করে আল্লাহর রহমতে এখন আমার ২৫টি গরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ২০টি গরু বেশ ভালো দামে বিক্রি করেছি। আগামীতে আরো বিক্রি করতে পারবো।

চর ধলেশ্বরীর দক্ষিণে বসবাস করেন রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমি প্রায় ৩৬ বছর যাবত এই চরে বসবাস করছি। আমিও সবার মতো মাছ শিকার করতাম। আস্তে আস্তে মাছ শিকারের পরিমান কমে যায়। তাই কয়েক বছর যাবত গরু লালনপালন করছি। প্রতি বছর কোরবানির সময় গরু বিক্রি করে লাভবান হই। এই গরু পালনেই আমাদের দিন ফিরেছে। আমরা স্বাবলম্বী হতে পেরেছি।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আতাউর রহমান ভূঁইয়ার বলেন, সরকার প্রন্তিক খামারিদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে। প্রান্তিক খামারিরা প্রাণিসম্পদের সমৃদ্ধি ঘটিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখেন। তাই তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করার জন্য আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি।



Source link