Categories
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

নাটোরে জনপ্রিয়তার শীর্ষে বরই চাষ, লাভবান চাষিরা!


নাটোরে জনপ্রিয়তার শীর্ষে বরই চাষ, লাভবান চাষিরা!

সম্প্রতি সময়ে নাটোরে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে বরই চাষ। অল্প খরচে বেশি আয় করা যায় বলে চাষিরা বরই চাষে ঝুঁকছেন। বাজারে বরইয়ের চাহিদার পাশাপাশি দামও ভালো পাওয়া যায়। ফলে বরই চাষের মাধ্যমে অনেক নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় বিদেশি জাতের বরইয়ের চাষ বাড়ছে। এই উপজেলায় ভারতের সুন্দরী, কাশ্মীরি বলসুন্দরী, থাই, আপেল ও নারকেল জাতের বরইয়ের ব্যাপকভাবে আবাদ হচ্ছে। বরইগাছে রোগবালাই কম হয় ও সেচের খরচও কম লাগে। তাই অল্প পুঁজিতে বেশি লাভ করা যাচ্ছে বলে জানায় চাষিরা।

সরেজমিনে চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চাষিদের বাগানে বরইয়ের ভারে ডালপালাগুলো মাটিতে নুইয়ে পড়ছে। বাঁশ ও কাঠের খণ্ডাংশ দিয়ে ডালপালাগুলো উঁচু করে রেখেছেন এবং তারা গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা এই উপজেলার উৎপাদিত বরইয়ের গুণগত মান, আকার, রং ও স্বাদ খুবই ভালো। চাষিরা আকার ও জাত ভেদে প্রতিমণ বরই ৩-৬ হাজার টাকায় বিক্রি করছেন। অনেক পাইকাররা ও ব্যবসায়ীরা বাগান থেকেই বরই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে প্রতিমণ বলসন্দুরী ৩ হাজার টাকা, ভারত সুন্দরীর ৪০০০-৪৫০০ টাকা। আগাম জাতের থাই বরই ৬ হাজার আর নারকেল বরই ৫৫০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গুরুদাসপুর উপজেলায় প্রায় ৪৭ হেক্টর জমিতে বরইয়ের চাষ হচ্ছে। এতে চাষিরা ভারত সুন্দরী, কাশ্মীরি বলসুন্দরী, থাই, আপেল ও নারকেল জাতের বরইয়ের আবাদ করছেন। গত বছরের তুলনায় এবছর ২ হেক্টর বেশি জমিতে বরইয়ের চাষ হয়েছে। দিন দিন এই অঞ্চলে বরইয়ের চাষ বাড়ছে।

চাষিরা বলেন, ১ বিঘায় ২০০-২৫০টি চারা লাগানো পর তা থেকে ৮ মাসেই ফল আসা শুরু করে। প্রথম বছরে প্রতি গাছ থেকে ৩০-৪০ কেজি বরই সংগ্রহ করা যায়। পরে কিছু গাছ কমিয়ে ফেলতে হয়। কারণ গাছ কম থাকলে ফলন বেশি পাওয়া যায়। তাই পরের বছর গাছ কমে ১০০-১৫০ টি গাছ হলে তখন প্রতি গাছে ৪০-৬০ কেজি করে বরই পাওয়া যায়। বরই চাষে বিঘায় ১ লাখ টাকা খরচ হলেও প্রায় আড়াই লাখ টাকার বরই বিক্রি করা যায়।

নাজিরপুর ইউনিয়নের দুই বরই চাষি রাজেদুল ইসলাম ও বাবুল হোসেন বলেন, ২০০৮ সালে প্রায় দেড় বিঘা ২০ হাজার টাকায় লিজ নিয়ে বরই চাষ শুরু করেন। বাগানটি করতে তাদের প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রথম বছর তারা ২ লাখ ৩০ হাজার টাকার বরই বিক্রি করেন।

তারা আরো বলেন, চলতি বছর ৩২ বিঘা জমিতে বরইয়ের সাথে পেয়ারা ও ড্রাগনের চাষ করেন। গত বছর ৫০-৬০ লাখ টাকার বরই বিক্রি করেছিলেন। এবছর আরো বেশি টাকার বরই বিক্রি করতে পারবেন বলে জানায় তারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুনর রশিদ জানান, উপজেলায় এ বছর ৪৭ হেক্টর জমিতে বিদেশি জাতের ৪৩টি বরইবাগান হয়েছে। আমরা চাষিদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছি। আশা করছি আগামীতে এই উপজেলায় বরইয়ের চাষ আরো বাড়বে।



Source link