Categories
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

ন্যায্য দাম না পেয়ে বেগুন চাষিদের মাথায় হাত!


ন্যায্য দাম না পেয়ে বেগুন চাষিদের মাথায় হাত!

শেরপুরে বেগুনের বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য দাম না পেয়ে বিপাকে চাষিরা। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর বেগুনের উৎপাদন খরচ বেশি পড়েছে। সে অনুযায়ী বেগুনের ভালো ফলন পেলেও বাজারদর খুবই কম। বর্তমান বাজারদরে শ্রমিকের মজুরীও উঠছে না বলে জানান কৃষকরা।

জানা যায়, শেরপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন চরে ও ইউনিয়নের কৃষকরা ব্যাপক হারে বেগুনের চাষ করেছেন। এতে কৃষকরা বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা ঋণ করে বেগুনের চাষ করেছেন। বর্তমানে বেগুনের দাম কম থাকায় এই বেগুন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।

কৃষকরা জানায়, এবছর বেগুনের ভালো ফলন হয়েছে। শুরুতে বেগুনের বাজারদর ভালো থাকলেও তা আস্তে আস্তে কমতে থাকে। বর্তমানে বেগুনের দাম একেবারে কমে গেছে। আগে পাইকাররা কৃষকদের কাছ থেকে ৮০০-১০০০ টাকা মণ দরে বেগুন কিনে নিলেও বর্তমানে ৩০০-৪০০ মণ দরে কিনে নিচ্ছেন। বেগুনের দাম কমপক্ষে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি করতে পারলেও পোষাতো বলে জানায় কৃষকরা।

কৃষক আবদুল জব্বার বলেন, এবছর ৫০ হাজার টাকা ঋণ করে ৫০ শতাংশ জমিতে বেগুনের চাষ করেছিলাম। অন্যান্য বছরের চেয়ে এবছর তেল, সার ও ঔষধের দাম বেশি। তাই চাষে বেশি টাকা খরচ হয়েছে। শুরুতে ভালো দাম থাকলেও এখন বেগুনের কোনো দামই নেই। চিন্তায় আছি বেগুনের দাম এমন থাকলে খরচের টাকা কিভাবে উঠাবো? ঋণ পরিশোভ কিভাবে করবো? সারা বছর খাবো কি করে?

সদর উপজেলার ৭ নম্বর চরের বেগুন চাষি মুকুল মিয়া বলেন, বাজারে আমরা কোনো জিনিস কিনতে গেলে দাম বেশি। আর আমরা উৎপাদন করে বাজারে বেচতে গেলে দাম কম। এমন হলে আমরা চলবো কিভাবে?

চরশেরপুরের মাইনুল হোসেন বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর সার, তেল ও ঔষধের দাম বেশি। তাই প্রতিমণ বেগুন উৎপাদনে ৭০০ টাকার মতো খরচ হয়েছে। শুরুতে ভালো দম থাকলেও বর্তমানে ৩০০-৩৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি করছি। এখন আমাদের সংসার চালাইনোই দায় হয়ে দাড়িয়েছে।

কারওয়ান বাজারের পাইকার নাজমুল বলেন, বর্তমান বাজারে বেগুনের চাহিদা কম। তাই আমরা কৃষকদের কাছ থেকে ৩০০-৪০০ টাকা মণ দরে বেগুন কিনে ট্রাকে করে ঢাকা নিয়ে এসে ৫০০-৫৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি করি। বাজারের অবস্থা বুঝেই আমরা সবজি কিনে নিয়ে আসি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে শেরপুর জেলায় ৯ হাজার হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজার হেক্টর জমিতে করা হয়েছে বেগুনের আবাদ। চরাঞ্চলে বেগুনের বেশি চাষ হয়েছে। এখানকার উৎপাদিত বেগুন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়।

শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপপরিচালক কৃষিবিদ শুকল্প দাস বলেন, চলতি মৌসুমে এই জেলায় বেগুনের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রথম দিকে বাজারে বেগুনের দাম ভালো থাকলেও এখন দাম কমেছে। মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে কৃষকরা প্রকৃত দাম পাচ্ছে না। সরকারি ভাবে কৃষকদের কাছ থেকে বেগুন ক্রয় করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করার কথা চিন্তা করা হচ্ছে। এতে কৃষকরা তাদের লোকসান পুষিয়ে নিতে পারবেন।



Source link