Categories
টিপস

মুখ ও দাঁতের স্বাস্থ্য খারাপ হওয়ার লক্ষণ ও কারণগুলো কী কী?


মুখ ও দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখা শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যা শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি ঠিকঠাকমতো মেনে চললেই অর্জন করা সম্ভব। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মুখের স্বাস্থ্যের অবস্থা প্রতিরোধযোগ্য এবং তাদের প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা করা গেলে তা পরবর্তীতে কোনো সমস্যার সৃষ্টি করে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দাঁতের যে সব রোগ কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায় তার মাঝে অন্যতম হলো- ডেন্টাল ক্যারিজ বা দাঁতের ক্ষয়, পেরিওডন্টাল বা মাড়িজনিত বিভিন্ন রোগ, ওরো ডেন্টাল ট্রমা বা দুর্ঘটনাজনিত কারণে সৃষ্টি হওয়া বিভিন্ন রোগ বা ওরাল ক্যান্সার ইত্যাদি।

গ্লোবাল ওরাল হেলথ স্ট্যাটাস এর রিপোর্ট (২০২২) অনুযায়ী দেখা যায়, বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন মানুষ মুখের বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। এর মাঝে ৪ জনের মধ্যে ৩ জনই মধ্যম আয়ের দেশে বসবাস করেন। বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ২ বিলিয়ন মানুষ স্থায়ী দাঁতের ক্ষয়জনিত রোগে ভুগছেন এবং ৫১৪ মিলিয়ন শিশু প্রাথমিক দাঁতের ক্যারিজ বা ক্ষয় রোগটিতে ভুগছে। এই সংখ্যা যেন আর না বৃদ্ধি পায় সেজন্য সবার আগে সচেতনতা মেনে চলা জরুরি।

মুখ ও দাঁতের স্বাস্থ্য খারাপ হওয়ার কিছু লক্ষণ

সাধারণত উপসর্গের জন্য অপেক্ষা না করে মুখগহ্বর ও দাঁতের সমস্যা পরীক্ষা করার জন্য ডেন্টিস্টের কাছে নিয়মিত চেকআপ করলে ভাল ফলাফল পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে যদি মুখ ও দাঁতের সমস্যার কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখা দেয়, তবে অবশ্যই একজন ডেন্টাল বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

মুখ ও দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ডেন্টাল চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে

যে লক্ষণগুলো দেখলে ডেন্টিস্টের কাছে যেতে হবে
  • ব্রাশ করার সময় বা খাবার চিবানোর সময় মাড়ি থেকে রক্ত ​​পড়লে
  • দাঁতের মাড়িজনিত বিভিন্ন রোগের কারণে মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে
  • কিছুক্ষণ পর পর বা মাঝে মাঝে দাঁতে ব্যথা করলে
  • ঠান্ডা, গরম বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া বা পান করার সময় দাঁত শিরশির করলে
  • চোয়ালে ব্যথা হলে
  • দুর্ঘটনার কারণে দাঁত ভেঙে গেলে

যে যে কারণে মুখ ও দাঁতের সমস্যা হয় 

মুখ ও দাঁতের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ কারণ দেখা যায় যা বিভিন্ন সমস্যার জন্য দায়ী। কারণগুলো হচ্ছে-

১) ভুল নিয়মে ব্রাশ করার অভ্যাসের কারণে মুখের ও দাঁতের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাকটেরিয়া থেকে যায়। এই ব্যাকটেরিয়াই মুখের সমস্যা সৃষ্টি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

২) বেশি চিনিযুক্ত খাবার খাওয়া বা পান করার কারণে দাঁতে ব্যাকটেরিয়ার সৃষ্টি হয়। এটি দাঁতের উপর প্লাক তৈরি করে, যা দাঁতের ক্ষয় এবং মাড়িজনিত বিভিন্ন সমস্যার কারণ।

৩) পান সুপারি খাওয়া এবং ধূমপানের অভ্যাস থাকলে।

৪) নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপ এড়িয়ে চললেও ছোটখাটো দাঁতের সমস্যা বড় আকারে দেখা দিতে  পারে।

এগুলোই মূলত মুখ ও দাঁতের সমস্যার কিছু সাধারণ কারণ। এছাড়াও আরো অন্যান্য কারণও রয়েছে। প্রতি ছয় মাস পর পর একজন ডেন্টাল বিশেষজ্ঞের কাছে গেলে দাঁতের ছোটখাটো সমস্যাগুলোর কথা জানা যায় সহজেই। তাই দাঁতের সুস্থতার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং নিয়মিত দাঁত চেকআপ করা জরুরি।

মুখ ও দাঁতের সমস্যার প্রকারভেদ

১) ক্যাভিটি

দাঁতের শক্ত জায়গায় ছোট ছোট গর্ত হয়, এগুলোকে ক্যাভিটি বলে। অনেকেই একে চেনেন দাঁতের পোকা বলে। এই রোগকে ক্যারিজ বা দাঁতের ক্ষয়ও বলা হয়ে থাকে। যখন ব্যাকটেরিয়া, খাদ্য ও অ্যাসিড দাঁতে আবরণ তৈরি করে তখন ক্যারিজের উৎপত্তি হয়। সময়ের সাথে সাথে এই রোগটি দাঁতের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।

ক্যাভিটি

২) মাড়িজনিত রোগ (জিনজিভাইটিস)  

জিনজিভাইটিস মাড়ির একটি রোগ। এটি সাধারণত খারাপ ব্রাশিং ও ফ্লস করার অভ্যাসের কারণে দাঁতে যে প্লাক তৈরি হয় সেখান থেকে হয়ে থাকে। ব্রাশ বা ফ্লস করার সময় মাড়ির প্রদাহের কারণে মাড়ি ফুলে যেতে পারে এবং রক্তপাত হতে পারে।

৩) পেরিওডন্টাইটিস

পেরিওডন্টাইটিস মাড়ির আরও একটি রোগ। এ রোগের সংক্রমণ হলে তা চোয়াল ও হাড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। দীর্ঘদিন দাঁতের যত্ন না নিলে রোগটি হয়ে থাকে। এ রোগের কারণে পুরো শরীরে ব্যথাও হতে পারে।

৪) দাঁত ভেঙে যাওয়া বা ক্র্যাকড টুথ

মুখে আঘাতজনিত কারণে, শক্ত খাবার চিবানোর কারণে দাঁত ভেঙে যেতে পারে। ভাঙা দাঁতের ভেতরে অবস্থিত দন্তমজ্জায় পচন ধরে ধীরে ধীরে সংক্রমণ হলে পাশের দাঁতেরও সমস্যা হতে পারে। এছাড়া ভাঙা দাঁতের গর্তে বা ফাঁকা স্থানে ঢুকে থাকা খাদ্যকণা মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। ভাঙা দাঁতের ধারালো অংশের ঘর্ষণে জিহ্বার বা গালের নরম অংশে ঘা হতে পারে। এই ঘা কিছুদিন পর ভালো হলেও আবার আঘাতের ফলে সেই ঘা আবার জেগে ওঠে। সেখান থেকে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তাই দাঁত ভেঙে গেলে অবিলম্বে দাঁতের ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত।

 

মানুষের সৌন্দর্য অনেকটাই ফুটে ওঠে সুন্দর হাসিতে। কিন্তু দাঁতই যদি সুন্দর না থাকে, তাহলে প্রাণ খুলে হাসাও যায় না। আর এতে কনফিডেন্স লেভেলও অনেকটাই কমে যায়। আপনার দাঁত যদি সুন্দর থাকে, হাসিও সুন্দর হবে। আর এ জন্য মুখ ও দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখা জরুরি। তাই নিয়মিত দাঁতের যত্ন নিন, ডেন্টিস্টের কাছে চেকআপ করান, ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

ছবিঃ সাটারস্টক

 





Source link