Categories
ফ্রিল্যান্সিং

ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার সঠিক সময় কখন?


ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার সঠিক সময় কখন?

অনেকেই ছোট মানুষ আছে, যে ক্লাস সিক্সে পড়ে, ক্লাস এইটে পড়ে, ক্লাস নাইনে পড়ে বা টেনে পড়ে। তারপরে আপনার অনেকে আছে যে কেবল ইন্টারমিডিয়েট শুরু করেছে বা ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিয়েছে অথবা অনার্স চলছে, মাস্টার্সে চলছে , মানে লেখাপড়া করা অবস্থায় ফ্রিল্যান্সিং করাটা কতটা জরুরি অথবা উচিত কিনা এ বিষয়ে আজকের আলোচনা করব। ইনশাআল্লাহ।

ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার সঠিক সময় কখন?

বিষয়টি হচ্ছে যে ছাত্র অবস্থায় ফ্রিল্যান্সিং করা কতটা জরুরী? অথবা উচিত কিনা? এই বিষয়ে আলোচনা থাকবে। 

এখানে আমি তিনটি বিষয়ে আলোচনা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করব। আশা করি এই তিনটি বিষয়ের মাধ্যমে ক্লিয়ার হয়ে যেতে পারবেন আসলে ফ্রিল্যান্সিং করাটা কখন থেকে জরুরী অথবা কখন থেকে করা উচিত।

পড়াশোনা অবস্থায় (সেটা যে কোন পড়াশোনা হতে পারে) ফ্রিল্যান্সিং শুরু করাটা ভালো হবে কিনা ?

এখানে অনেক গুলো কথা আসবে। আমার সর্বপ্রথম কথা হবে যারা ক্লাস নাইন বা টেনে পড়ে তারা যদি ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে বেশি মনোযোগী হয়ে যায় হয়তোবা দেখবেন ঐযে নাইন টেনের যে জায়গাটা সেটা পার করতে পারবেন না। আমি আবারও ক্লিয়ার করছি যারা ক্লাস নাইনে পড়েন তারা এই ফ্রিল্যান্সিং এর প্রতি যদি আসক্তি বেড়ে যায় তখন কিন্তু আপনার পড়াশোনা টা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। এই জন্য চেষ্টা করবেন অন্ততপক্ষে এই জায়গাটা পার হয়ে আসতে।

তার মানে এই নদীটা পার হয়ে আপনি একটি জায়গাতে আসবেন। এর আগে ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে আপনি একটু বসতে পারেন। দেখতে পারেন আপনি এটা কিভাবে করে, কিভাবে কি, অমুক, তমুক বিস্তারিত বিশ্বাস করতে পারে, গবেষণা করতে পারে, কোন সমস্যা নেই। কিন্তু আপনি যদি ডেডিকেটেড ভাবে নিতে চান একেবারে বা আপনি যদি পার্মানেন্ট ভাবে নিতে চান যে আমি ফ্রিল্যান্সিং করবোই। এখন প্রশ্ন আসতে পারে এখানে ভাই অসংখ্য ছোট পোলাপাইনদের কে দেখেছি যে তারা কাজ করে । অবশ্যই কাজ করে ভালো কথা। কোন সমস্যা নাই। 

হয়তোবা তাদের ঐরকম মাইন্ড ব্যাকআপ দেওয়ার মত জায়গা আছে। হয়তোবা আপনার সেটা নাই। এরকম টাও তো কেউ হতে পারে যে আপনার সেটা নেই তার জন্য আমি নিষেধ করছি যাতে করে আপনার লেখা পড়াটা নষ্ট না হয়। আপনি ফ্রিল্যান্সিং করেন। আপনার যদি লেখাপড়া নষ্ট না হয় আপনি দিব্যি ফ্রিল্যান্সিং করেন। আপনি ফ্রিল্যান্সিং শিখতে পারেন কোন সমস্যা নাই। আরেকটা জায়গা আছে এই ছোট দের মধ্যে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত। ইন্টারমিডিয়েট পাশ করার আগ পর্যন্ত একটা প্রচুর পরিমাণ পেশার যায় একটা স্টুডেন্টের।

ওই প্রেসার এর মধ্যে আমার কাছে মনে হয় এই ধরনের প্রেসার বা চাপ বেশি নেওয়া উচিত না। আপনি শিখতে পারেন। নো প্রবলেম কিন্তু প্রফেশনালি বা পার্মানেন্ট ভাবে এরকম একটা প্রবেশন কে নিয়ে ফেলেন। তাহলে কি হবে? পড়াশোনার মাঝে একটা চলে আসবে তাহলে দেখবেন ইন্টারমিডিয়েট কমপ্লিট করতে পারছেন না। আমি এটি কেন বলছি? আমি এটির উদাহরণ দিচ্ছি

“ আপনি যদি ইন্টারমিডিয়েট কমপ্লিট করতে পারেন আপনি বিদেশে যেকোন জায়গায় পড়াশোনা করতে পারবেন কিন্তু আপনি যদি এসএসসি পাস করেন ইন্টারমিডিয়েট পাশ না করেন তাহলে বিদেশের কোথাও যেতে পারবেন না। এই বিষয়টার জন্য এসএসসি বা ইন্টারমিডিয়েট পাশ করাটা খুবই প্রয়োজন। “

লেখাপড়ার পাশাপাশি আর যদি আপনি মনে করেন সবকিছু মানিয়ে গুছিয়ে নিতে পারবেন,  কিছু চালিয়ে যেতে পারবেন, তাহলে নিঃসন্দেহে আপনি ফ্রিল্যান্সিং চালিয়ে যেতে পারেন।

অনলাইনে শিখবো না অফলাইনে শিখবো , কার কাছে শিখবো ,কোথায় শিখবো ?

সর্বপ্রথম যে বিষয়টি সেটি হচ্ছে আপনাকে অবশ্যই অবশ্যই যে বিষয় নিয়ে কাজ করতে চাচ্ছেন সেই বিষয়টি নিয়ে ইউটিউবে প্রচুর পরিমাণে ঘাটাঘাটি করবেন। তখন আপনি যাচাই করতে পারবেন এখান থেকে কার কাছে শেখা যায়, কোন অনলাইন একাডেমী থেকে শেখা যায় অথবা কোন ফিজিক্যাল মেন্টর কাছ থেকে শেখা যায় এটা আপনি বিস্তারিত পেয়ে যাবেন। 

যারা অধিকাংশ মানুষ অন্যকে শেখানোর জন্য প্রস্তুত থাকে, তাদের অধিকাংশ পাবলিকের ই দেখবে হয়তো ফেসবুকের একটি জায়গায় ভালো আছে, ইউটিউব এর একটি জায়গায় ভালো আছে । এই জায়গা গুলো কে আপনি আগে ভালো করে যাচাই করবেন। তারপরে আপনি কি? একজনকে বাছাই করবেন। সেটা যে কেউ হতে পারে নো প্রবলেম… আর যাকে আপনার পছন্দ হবে যে, না তার কাছে থেকে আমি শিখতে পারবো তাকে কি আপনি বলতে পারেন যে আমাকে একটু শিখান অথবা আপনি তার অনলাইন একাডেমী থেকে শিখতে পারেন। এই বিষয়গুলো একটু মাথায় রাখলে মনে হয় আপনি আপনার কাঙ্খিত জায়গাটিকে ফাইন্ড আউট করতে পারবেন।

৩.ফুলটাইম হিসেবে নিব নাকি পার্ট টাইম হিসেবে নেব?

আপনি ইন্টারমিডিয়েট এর আগে যদি থাকেন তাহলে আপনি পার্টটাইম হিসাবে নিতে পারেন। পাশাপাশি এটা আপনি শিখতে পারেন। আর যদি ফুলটাইম হিসেবে নিতে চান বিশেষ করে যারা অনার্স পলিটিক্স লেভেলে ইঞ্জিনিয়ারিং পরছেন তারাও নিতে পারেন এটাকে। যখন ওই জায়গা থেকে নিবেন তখন আপনার লেখাপড়ার পাশাপাশি ওইটা কি আপনি নিজের খরচ পাতি ম্যানেজ করতে পারবেন। ইন্টারমিডিয়েট এর আগে খুব কমসংখ্যক স্টুডেন্ট আছে বাংলাদেশে অন্তত আমি দেখেছি।

যাদেরকে বাড়ি থেকে প্রেসার দেওয়া হয় যে, তুমি বেশি টাকা ইনকাম করো কিংবা তুমি টাকা ইনকাম করো তোমার লেখাপড়া করার দরকার নেই এগুলা বলে না। বলে কি? বাবা তুমি লেখাপড়া করো না? তুমি লেখাপড়া করো আমরা তোমাকে টাকা দিচ্ছি। বিশেষ করে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করা পর্যন্ত এটা। আপনি এই সময়টাকে কাজে লাগাতে পারেন লেখা পড়ার ক্ষেত্রে। পাশাপাশি আপনি এক্সট্রা ইনকাম এর জন্য যদি করতে চান তাহলে করেন, কোন সমস্যা নেই লেখাপড়া যেন কোনভাবে নষ্ট না হয়। এটা ওপর কোন ব্যাড ইফেক্ট যেন কোনভাবে না আসে।

এটা আমার জায়গা থেকে একটা রিকোয়েস্ট থাকবে। ছোট ছেলে মেয়েদের প্রতি বিশ্বাস কর, ছোট ভাই বোনদের প্রতি । এই তিনটি বিষয়ে খুবই গুরুত্ব দিবেন। বিশেষ করে যারা বর্তমান ছাত্র অবস্থায় আছেন যারা আমার ব্লগ পঢ়ছেন অসংখ্য ছাত্র ছাত্রী রাগ করছেন যে, ক্লাস 9 টেনের অসংখ্য ছাত্রী আছেন, ইন্টারমিডিয়েটের অনেক ছাত্র-ছাত্রী আছেন। আপনার ক্যারিয়ার টাকে যখন আপনি একটি ভালো জায়গায় নিয়ে যাবেন সভায় আপনাকে নিয়ে বাহবা দিবে।

আর আপনার ক্যারিয়ার টাকে এমন একটি জায়গায় নিয়ে যাবেন না, সেখান থেকে আপনি ভালো কিছু করতে পারবেন না। যাতে করে সবাই ভালো কিছু বলবেনা। আপনাকে দেখবেন কি মশকরা করছে, আপনাকে ডি মটিভেট করছে। কোন একটা বিষয়, কোন কথার মাধ্যমে এটা আপনার জন্য খারাপ হয়ে যাবে। তাই ভালো কিছু করার জন্য সবাই আমরা প্রস্তুত থাকি। ভালো কিছু করার জন্য সব সময় ভালো মান পাওয়ার জন্য অনেক কিছু করে থাকি। তাই এই জায়গা গুলো আপনি ম্যানেজ করতে পারলে আশা করছি আপনি ভালো কিছু করতে পারবেন ।

এই তিনটি বিষয় আমি আবারও আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি যাতে করে এ বিষয়গুলো আপনাদের মনে থাকে।

ছাত্র অবস্থায় ফ্রিল্যান্সিং করাটা কতটা জরুরি বা উচিত কিনা এ বিষয়ে কথা বলছিলাম।

১ নাম্বার যে বিষয়টি সেটি হচ্ছে

পড়াশোনার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করা ভালো হবে কিনা

যদি বলি ক্লাস 9/10, ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত এমনি একটু মজার ছলে শিখে নিতে পারেন।দেখতে পারেন বাট প্রফেশন হিসেবে নিয়েন না । ইন্টারমিডিয়েট কমপ্লিট করার পর অনার্স লেভেল থেকে সেটাকে আপনি প্রফেশন হিসেবে নিতে পারেন। কোন সমস্যা নেই। আমি কোন কমেন্ট করছি না আমি পরামর্শ দিচ্ছি আপনাকে।

২ নাম্বার যে বিষয়টি 

আপনি কখন শিপমেন্ট কোথায় শিখবেন ?

প্রথমে ইউটিউবে ঘাটবেন তারপর আপনি সেখান থেকে বাছাই করে নিতে পারবেন, আপনার কাঙ্খিত মেন্টর কে। আপনি সেটা অনলাইন হতে পারে অফলাইন হতে পারে অথবা ইউটিউব এর কোন ভিডিওর মাধ্যমে হয়ে থাকতে পারে।

৩ নাম্বার যে বিষয়টি সেটি হচ্ছে এটি 

আপনি এটিকে ফুলটাইম হিসেবে নিবেন নাকি পার্ট টাইম হিসেবে নেবিন?

সেটা আপনার একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার । আসলে আপনি কোন টাইম কে মেইনন্টেইন করতে পারছন?… আপনি যদি এটাকে ফুল টাইম দেন তাহলে আপনার লেখাপড়া ক্ষতি হতে পারে তাই আপনি আপনার জায়গা থেকে পার্টটাইম নেওয়াটা বেটার হবে। 

আপনার এমনটা যদি হয় যে আপনার সময় আছে তাহলে আপনি full-time হিসাবে নিতে পারবেন। কোন সমস্যা নেই। এটা থেকে একটি প্রডাক্টিভিটি বেরিয়ে আসবে। বিষয়টিকে আপনি একসেপ্ট করবেন। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

আরও পড়ুনঃ

আশা করি এই পোস্ট টি আপনাদের ভালো লেগেছে। এরকম আরো ভালো ভালো পোস্ট পেতে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। ধন্যবাদ।



Source link