Categories
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

পান চাষে স্বাবলম্বী হাতিয়ার চাষিরা!


পান চাষে স্বাবলম্বী হাতিয়ার চাষিরা!

চাষে খরচ কম, রোগবালাইও কম, এবং লাভ বেশি হওয়ায় পান চাষে ঝুঁকছেন হাতিয়ার চাষিরা। অন্যান্য ফসল ও সবজি থেকে পান চাষে অধিক লাভবান হওয়া যায় বলে চাষিরা পান চাষ করছেন। এতে পান চাষিদের পাশাপাশি কর্মসংস্থান হচ্ছে স্থানীয় যুবকদের। পানের অধিক ফলন ও বাজারদর ভালো থাকায় খুশি চাষিরা।

জানা যায়, হাতিয়া উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের দাশপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় প্রচুর পানের বরজ গড়ে উঠেছে। উপজেলার মাটি পান চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় পানের ফলন বেশি পাওয়া যায়। এছাড়াও এসব পানের বরজে কাজ করে অনেক যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এই এলাকার অধিকাংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের চাষিরা পান চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। পানের বরজ থেকে সারাবছর পান তুলে বিক্রি করা যায়। তাই সারাবছরই পান বিক্রি করে আয় করা যায়।

দাসপাড়া এলাকার পান চাষি নিরব চন্দ্র দাস বলেন, আমি প্রায় ৪০-৪৫ বছর যাবত পান চাষ করছি। আগে পান চাষি কম ছিল। বর্তমানে পান চাষির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। পান চাষ করে আমরা দীর্ঘদিন যাবত লাভবান হয়েছি। আমি আর আমার ভাইয়ের ১৩০টি পানের বরজ রয়েছে।

হরিপদ চন্দ্র দাস বলেন, হাতিয়ার পান স্বাদে মিষ্টি ও সরস। এই এলাকার মাটি ভালো হওয়ায় পানের ফলন বেশি ও পান স্বাদের হয়। অন্য কোথাও থেকে পান না আসলে আমরা আরো বেশি দামে বিক্রি করতে পারতাম।

নয়ন চন্দ্র দাস নামের আরেক পান চাষি বলেন, পান চাষে লাভ হওয়ায় দিন দিন এই এলাকায় পান চাষি বাড়ছে। আগে যেখানে ৫ জন পান চাষি ছিল সেখানে এখন ১৫ জন চাষি হয়েছে।

রীতা রানী নামের এক নারী বলেন, পান চাষে পুরুষের পাশাপাশি আমরা নারীরাও সহযোগিতা করছি। আমি পান ভাঙি, পান ধুয়ে, গুছিয়ে দেই। স্বামী এই পান বাজারে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে। সেখান থেকে যা পায় তা দিয়েই আমাদের সংসার চলে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নোয়াখালীর উপ-পরিচালক মো. শহীদুল হক বলেন, চলতি বছর নোয়াখালী জেলায় ১২৪ হেক্টর জমিতে পান চাষ করা হয়েছে। পান চাষে প্রায় ৫৫২ জন চাষি জড়িত। পান একটি বারোমাসি অর্থকরি ফসল। একটি পানের বরজ থেকে সারাবছর পান সংগ্রহ করা যায়। আর একবার পানের বরজ তৈরী করলে তা থেকে ২০-২৫ বছর পান পাওয়া যায়। দিন দিন হাতিয়ায় পানের চাষ বাড়ছে। আশা করছি পানের আবাদ আরো বাড়বে। কৃষি বিভাগ পান চাষিদের সব ধরনের সহযোগিতা করছে।



Source link