Categories
News

লন্ডনে আজান নিষিদ্ধ করায় মসজিদ থেকে গায়েবী আজান আসার দাবিটি মিথ্যা 


দীর্ঘদিন ধরে ‘লন্ডনে একটি মসজিদে আযান নিষিদ্ধ করার পর মসজিদ থেকে গায়েবী আযান আসতে শুরু হয়েছে।‘ শীর্ষক শিরোনামে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার হয়ে আসছে।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে
পোস্টগুলোর আর্কাইভ ভার্সন দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, লন্ডনে একটি মসজিদে আজান নিষিদ্ধ করার পর মসজিদ থেকে গায়েবী আজান আসতে শুরু হওয়ার দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি সঠিক নয় বরং এটি ২০১৩ সালে সুইডেনের স্টকহোমের ফিটজা এলাকায় অবস্থিত একটি মসজিদে আজান দেওয়ার ভিডিও। 

রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইউটিউবের Presheva Lee নামের একটি চ্যানেলে ২০১৩ সালের পহেলা মে “First Azam- Muslim call to prayer in Stockholm- Sweden” শীর্ষক শিরোনামে প্রচারিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়।

ভিডিওটির বিস্তারিত বিবরণী থেকে জানা যায়, সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের দক্ষিণের ফিটজা মসজিদে মুসুল্লিরা শুক্রবারে প্রথমবারের মতো আজান শুনতে পেল।

(নোট: মূল ভিডিওটি ডাউনলোড করে এখানে দিতে পারলে ভালো হবে)

এই ভিডিওটির সঙ্গে লন্ডনে একটি মসজিদে আযান নিষিদ্ধ করার পর মসজিদ থেকে গায়েবী আযান আসার দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটির পুরোপুরি মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

এই ভিডিওটির সূত্র ধরে পরবর্তীতে তুরস্কের বার্তা সংস্থা Anadolu Agency এর ওয়েবসাইটে ২০১৩ সালের ৪ মে ‘Sweden’s King Carl XVI Gustaf visits Fittja Mosque in Stockholm‘ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, সুইডেনের রাজা কার্ল ষোড়শ গুস্তাফ এবং রানী সিলভিয়া স্টকহোমের ফিটজা গ্র্যান্ড মসজিদ পরিদর্শন করেছে। যেখানে গত সপ্তাহের শুক্রবারে সুইডেনের প্রথমবারের মতো আজান শোনা গিয়েছিল।

এছাড়া সুইডেনের স্থানীয় গণমাধ্যম The Local এ একই বছরের ২৬ এপ্রিল ‘Historic prayer call heard at Stockholm mosque‘ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। 

এই প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের এপ্রিলের শুরুতে সুইডেনের স্থানীয় পুলিশ শুক্রবার বেলা ১ টায় ৩ থেকে ৫ মিনিটের জন্য আজান দেওয়ার ব্যাপারে অনুমতি দেয়৷ 

প্রতিবেদনটি থেকে আরও জানা যায়, ফিটজা গ্র্যান্ড মসজিদটি ২০০৭ সালে ফিটজায় নির্মাণ করা হয়। 

উপরিউক্ত তথ্য সমূহ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, লন্ডনে একটি মসজিদে আজান নিষিদ্ধ করার পর মসজিদ থেকে গায়েবী আজান আসতে শুরু হওয়ার দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটিতে থাকা মসজিদটি লন্ডন তথা ইংল্যান্ডের নয়। পাশাপাশি এটি কোনো গায়েবী আজানের দৃশ্যও নয় বরং সুইডেনের ফিটজার একটি মসজিদে শুক্রবারে প্রথমবারের মতো আজান দেওয়ার ঘটনা এটি।

লন্ডনে কি মসজিদে আজান দেওয়া নিষিদ্ধ?

দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে রিউমর স্ক্যানার টিম সাম্প্রতিক সময়ে লন্ডনে কোথাও আজান নিষিদ্ধের নির্ভরযোগ্য সূত্রে কোনো তথ্য খুঁজে পায়নি।

বরং অনুসন্ধানে সৌদি আরব ভিত্তিক গণমাধ্যম ARAB News এর ২০২০ সালের ৮ মের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১৯৮৫ সালে চালু হওয়ার পর লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলের ইস্ট লন্ডন মসজিদ এবং লন্ডন মুসলিম সেন্টার যুক্তরাজ্যে প্রথম আযান প্রচার করা হয়। এসব মসজিদে সকাল ৭ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টার মধ্যে যে কোনো নামাজের জন্য প্রকাশ্যে সারা বছর আজান শোনা যায়।

এছাড়া প্রতিবেদনটিতে লন্ডনের মসজিদ-ই-উমর নামের একটি মসজিদের শুক্রবারের জুমার নামাজের জন্য দেওয়া আজানের একটি ভিডিও ফুটেজও যুক্ত করা হয়েছে। ভিডিওটি দেখুন এখানে

পাশাপাশি ইংল্যান্ডের গণমাধ্যম Daily Mail এর প্রতিবেদন সূত্রেও দেশটিতে সমসাময়িক সময়ে প্রকাশ্যে আজান দেওয়ার ভিডিও ফুটেজ খুঁজে পাওয়া যায়। 

মূলত, ২০১৩ সালের এপ্রিলে সুইডেনের স্টকহোমের ফিটজা এলাকায় অবস্থিত একটি মসজিদে প্রথমবারের মতো শুক্রবারের জুমার আজান দেওয়া হয়। ঐ মসজিদটিতে প্রথমবারের মতো আজান দেওয়ার ধারণকৃত একটি ভিডিও ফুটেজকে পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লন্ডনে একটি মসজিদে আজান নিষিদ্ধ করার পর মসজিদ থেকে গায়েবী আজান আসতে শুরু হওয়ার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রচার করা হচ্ছে। তবে রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে লন্ডনে সাম্প্রতিক সময়ে কোথাও আজান নিষিদ্ধের নির্ভরযোগ্য সূত্রে কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। বরং সমসাময়িক সময়ে লন্ডনে প্রকাশ্যে আজান দেওয়ার একাধিক ভিডিও ফুটেজ রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে খুঁজে পাওয়া যায়। 

সুতরাং, লন্ডনে একটি মসজিদে আজান নিষিদ্ধ করার পর মসজিদ থেকে গায়েবী আজান আসার ভিডিওটি সঠিক নয়; এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র





Source link