Categories
Tips and Tricks

কেন স্যামসাং চীনে ফোন বিক্রি করে না? | Techtunes


বর্তমান বিশ্বের সবচাইতে জনপ্রিয় স্মার্টফোন ব্র্যান্ড স্যামসাং। বিশ্বে মোট বিক্রিত স্মার্টফোন এর সবচাইতে বেশি জায়গা জুড়ে রয়েছে স্যামসাংয়ের ফোনগুলো। Samsung বিশ্বজুড়ে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করলেও, চীনে তাদের মার্কেট শেয়ার মাত্র ০.৬%। কয়েকটি বিশেষ মডেল ব্যতীত, বিশ্বের বৃহত্তম ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যামসাং চীনে আর কোন ফোন বিক্রি করে না।

Samsung তাদের ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর জন্য এবং উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য চীনে তাদের কারখানা স্থাপন করেছিল। কিন্তু, ২০১৯ সালে তারা সেখান থেকে সর্বশেষ স্মার্টফোন উৎপাদন কারখানাটি ও গুটিয়ে নিয়ে আসে। সেই সাথে সেখানে তাদের বাজারও সংকুচিত হয়ে আসে। স্যামসাং এর ক্ষেত্রে চীনের তাদের বাজার সংকুচিত হওয়ার বিষয়টি যদিও কোন ভাল কথা নয়। কিন্তু, যেখানে তারা কয়েক দশক ধরে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছিল, আর সেখান থেকে তারা পিছিয়ে পড়ছে এটি অনেক বড় ব্যাপার।

মাত্র কয়েক বছর আগে চীনে কোরিয়ান এই প্রতিষ্ঠানের মার্কেট শেয়ার ছিল ২০ শতাংশ। কিন্তু, তারা কিছুদিনের মধ্যেই সেই বাজার হারিয়ে ফেলে এবং অন্যরা সেই বাজারটি খুব দ্রুতই দখল করে নেয়। চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক যে, স্যামসাং এর মত এত বড় একটি প্রতিষ্ঠানের কি ভুল হয়েছিল এবং কি কারণে তাদেরকে চায়নার বাজার হারাতে হয়েছিল।

চীনে স্যামসাং এর প্রথম যাত্রা

চীনে স্যামসাং এর প্রথম যাত্রা

১৯৯২ সালে সর্বপ্রথম স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স চীনে তাদের প্রথম উৎপাদন চালু করে। এমনকি তারা আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছিল Beijing এবং Seoul এর কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৪ দিন আগে। Samsung চীনে প্রবেশ করতে অনেক আগ্রহী ছিল। আর এটি অন্যতম একটি বড় কারণ হতে পারে সেখানে শ্রমের মূল্য অনেক কম এবং এতে প্রাথমিকভাবে সেখান থেকে রপ্তানির জন্য পণ্য তৈরি করা অনেক সহজ হবে।

তবে, স্যামসাং এর ক্ষেত্রে চীনের ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্তদের জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বেশি সময় লাগেনি। আর নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে Samsung দেশটিকে একটি কনজিউমার বাজার হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করে। অর্থাৎ, সেখানে তারা তাদের পণ্যের বাজার বিস্তৃত করতে আরম্ভ করে। স্যামসাং চীনের একটি প্রথম প্রবেশকারী ছিল। এজন্য তারা প্রথমে হোম এপ্লায়েন্স এবং তারপর ফোনের মাধ্যমে বাজার দখল করতে শুরু করে। এর মধ্যে যেমন: a288 – এর মত মডেলের ফোনগুলো বাজারে নিয়ে আসে।

আর এই ডিভাইস গুলো তাদেরকে বিশাল Global device portfolio, এশিয়া-জুড়ে কোরিয়ানদের সাংস্কৃতিক আইকন গুলি এবং সেই সাথে আরও কয়েকটি প্রধান সাফল্য এনে দেয়। আর তাদের এসব পণ্যগুলো প্রচারের জন্য স্থানীয় সেলিব্রিটিদের নিয়োগ করা হয়। সেসময় স্যামসাং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফোন প্রস্তুত-কারকদের মত চীনের স্মার্টফোনের বাজারও জয়ের পথে রয়েছে বলে মনে হয়েছিল। এসময় তারা খুব দ্রুত অন্যান্য স্মার্ট ফোন প্রস্তুতকারক কোম্পানিকে টপকে শীর্ষ অবস্থানে চলে যায় এবং একটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত পায়। কিন্তু এই উত্থানের মাত্র দুই বছর পরেই, আবার তাদের জনপ্রিয়তা হারাতে শুরু করে।

এমনকি এই দুই বছরের মধ্যে তারা শীর্ষ পাঁচটি স্মার্ট ফোন বিক্রিত তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়। আর ২০১৮ সালের মধ্যে তারা চীনের বাজার থেকে কার্যত একেবারে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়।

চীন থেকে Samsung এর পতনের যাত্রা

চীন থেকে Samsung এর পতনের যাত্রা

বর্তমানে স্যামসাং এখনো সেই দেশে তাদের কয়েকটি ফোন বিক্রি করে। কিন্তু, তারা পূর্বের মতো তাদের মার্কেট আর পুনরুদ্ধার করতে পারেনি। আর দুই বছর আগে তারা তাদের সর্বশেষ কারখানাটি ও চীন থেকে বন্ধ করে দিয়েছে, যেটি ১৯৯২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে চালু করা হয়েছিল।

চীনের বাজারে স্যামসাংয়ের প্রধান অবস্থান থেকে একেবারে পতনের বিষয়টি কল্পনা করা সত্যিই একটি প্রশ্নের ব্যাপারের জন্ম দেয়। তাদের কী এমন ভুল হয়েছিল, যে কারণে তাদেরকে শীর্ষ অবস্থান থেকে একেবারে সর্বনিম্ন স্থানে যেতে হলো?

চায়নায় এরকম একটি বিদেশী কোম্পানির দ্রুত পতনের কথা শুনে অনেকেই হয়তোবা এটি ধারণা করে যে, রাজনৈতিক সমস্যাটিই হয়তোবা এর মূল কারণ। আর আমিও প্রাথমিকভাবে এই ধারণাটিই করেছিলাম। কিন্তু, আমি যতই এটি নিয়ে অনুসন্ধান করতে যাচ্ছিলাম, তখন আমার মনে হচ্ছিল Samsung-এর এমন দশার আসল কারণ। নিশ্চিতভাবে চীনা সরকার সরাসরি নিষিদ্ধ করেছে বা চুপচাপ গলা টিপে হত্যা করেছে; যেরকম ভাবে অতীতে ফেসবুক এবং গুগলের মত অনেক বিদেশি প্রযুক্তি কোম্পানি কে তাদের দেশ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এ বিষয়টি অবশ্যই তাদের দেশের মানুষদের পছন্দকে প্রভাবিত করে।

কিন্তু, আমি মনে করি না যে, স্যামসাং এর মত একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এরকম আকস্মিক এবং সম্পূর্ণ পতনের ব্যাখ্যা করার জন্য এই কারণগুলো খুবই যথেষ্ট।

চীন থেকে স্যামসাংকে সরাসরি বের করে দেওয়ার মতো বড় খবর কখনো পাওয়া যায়নি। আর ঐতিহ্যগতভাবে চীনের অভ্যন্তরে অনেক নির্মাতারা হার্ডওয়্যার উৎপাদন করছে। আর সেখানে তারা হাজার হাজার কর্মী নিয়োগ করেছে এবং স্থানীয়ভাবে ব্যাপক ভাবে সাপ্লাই চেইন ইকো-সিস্টেম তৈরি করেছে। চীনে এখনও স্যামসাং আছে এবং সেখানে আরো অনেক যৌথ উদ্যোগ রয়েছে। রাষ্ট্রীয় মিডিয়াগুলো তাদেরকে অভিবাদন জানিয়ে ছিল। কারণ তারা বলেছিল যে, স্থানীয় কোম্পানিগুলোকে কোরিয়ানদের কাছ থেকে এমন উচ্চ স্থানে যাওয়া শেখা উচিত।

যদিও এটি সন্দেহজনক যে, জাপান একমাত্র অন্য প্রধান দেশ, যেখানে স্যামসাংয়ের অন্তত দুই অঙ্কের বাজার শেয়ার নেই। চীনের কোরিয়ার সাথে কঠিন সম্পর্ক ছিল, আমি মনে করি না যে, এটি ব্যাখ্যার জন্য যথেষ্ট। কারণ, স্যামসাং ২০১৩ সালের আগে চীনে ঠিকই কাজ করছিল এবং অন্যান্য অনেক ব্যবসা যেমন: তাদের টিভি আজও পর্যন্ত সেদেশে ভালো চলছে।

তবে আজ অবধি চীন অবশ্যই Samsung এর জন্য একটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল দেশ ছিল। কিন্তু, নিশ্চিত ভাবে রাজনীতিই তাদের পতনের মূল কারণ ছিল না। স্যামসাংয়ের চীনের বাজার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, ২০১৩ সালে স্যামসাং এর পতন শুরু হয়েছিল। আর সেই কারণে চীনের বাহিরের পর্যবেক্ষকদের কাছেও এটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য একটি বিষয় ছিল। তবে চীনের মোবাইলের বাজার থেকে তাদের পতনের পরিসংখ্যানটি শুধু একক ছিল না; বরং অন্যান্য কোম্পানি ও একইসাথে বাজার হারাতে থাকে। এক্ষেত্রে আমরা যদি লিডার বোর্ডের দিকে তাকাই, তাহলে স্যামসাং এর পাশাপাশি Zte, Lenovo এবং Coolpad এর মত কোম্পানিগুলোকে খুঁজে পাই।

এছাড়া একই সাথে HTC, Meizu এবং আরো অনেক প্রতিষ্ঠান ছিল, যাদের সে সময় চীনের বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শেয়ার ছিল। আর Huawei এবং Apple ব্যতীত এসব কোম্পানিগুলো জোয়ারের পানির মত জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যায়। আর এসব কোম্পানিগুলোর পতনের পর বাজারে উত্থান হয় Xiaomi, Oppo, Vivo, Huawei এবং Apple এর মতো প্রতিষ্ঠান। এক সময় এসব ব্র্যান্ডগুলো চীনের বাজারে অনেক নিম্ন পর্যায়ে ছিল, কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই সেগুলো চীনের বিগ ফাইভ এর মধ্যে চলে আসে।

স্যামসাংয়ের পতন এবং চীনে অন্যান্য ব্র্যান্ডগুলোর উত্থান

চীনে অন্যান্য ব্র্যান্ডগুলোর উত্থান

এই দেশটি তুলনামূলক ভাবে সমজাতীয় স্মার্টফোনের বাজারে খুব বেশি আলাদা ছিল না। এটি স্যামসাংয়ের বিস্তৃত বৈশ্বিক পোর্টফলিও এবং সাধারণ কৌশলকে সেখানে উন্নতি করতে দেয়। কিন্তু, নতুন স্মার্ট ফোন প্রস্তুতকারীরা এই বাজার টিকে তিনটি খুব স্বতন্ত্র অংশে ভাগ করে, যার কোনোটিই স্যামসাং প্রকৃতপক্ষে নিজেদের জন্য অনুভব করেনি।

Xiaomi প্রথমে বাজারে এসে এটি দেখেছিল যে, আমরা যদি ফিজিক্যাল স্টোর এর পরিবর্তে অনলাইনে ফোন বিক্রি করি, তাহলে আমরা প্রতিযোগিতার অর্ধেক ধরতে পারবো। আর এই বিষয়টি শাওমি কে দেশের এক নাম্বার স্থানে পৌঁছে দেয়। কেউ কেউ শাওমি এর মোকাবেলা করেছে। এর মধ্যে যেমন হুয়াওয়ে। হুয়াওয়ে ও তাদের Online focused honor sub brand তৈরি করেছিল। কিন্তু, অন্যদিকে স্যামসাং এই সময়ের সম্পূর্ণভাবে তার গ্লোবাল ডিভাইস পোর্টফলিও এবং ব্যবসায়িক মডেলের জন্য, এটির ব্যাপারে সম্পূর্ণভাবে পুনরায় কাজ করতে আর ইচ্ছুক ছিল না।

হঠাৎ করেই শাওমি গ্রাহকদের কাছে অনেক পছন্দের একটি ব্র্যান্ড হয়ে গিয়েছিল এবং এসময় স্যামসাং গ্রাহকদের মাঝে সাড়া দিতে অনেক ধীর গতির ছিল। চায়নার একজন বিশ্লেষকের মতে, স্যামসাং ২০১৮ সালে একটি মোবাইল সিরিজের জন্যও প্রতিযোগিতা মূলক মূল্যের অফার করেনি। তারমানে, স্যামসাং এর ক্ষেত্রে যেভাবেই হোক, তাদের প্রতিক্রিয়া জানাতে মূলত পাঁচ বছর সময় লেগেছিল। অপরদিকে Oppo এবং Vivo প্রাথমিকভাবে একচেটিয়া গ্রামীণ এলাকা এবং কম উন্নত বিশিষ্ট শহর গুলোতে তাদের ব্যবসা প্রসারিত করেছে। আর তারা এসব চীনা পল্লীগুলোতে তাদের ফোনগুলো বিক্রি করে।

চীনের এক বিশেষজ্ঞ বলেন যে, “স্থানীয়ভাবে এবং চীনে যখন আপনি বাজারের সাথে মোকাবিলা করবেন, তখন আপনাকে সেসব ডিস্ট্রিবিউশন পয়েন্টগুলোতে প্রচুর পরিমাণ বিনিয়োগ করতে হবে। ” আর আপনি জানেন যে, স্যামসাং চীনে যখন তাদের ব্যবসা পরিচালনা করত, তখন সেখানে উচ্চ ব্যবস্থাপনার জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোরিয়ান প্রবাসীদের ব্যবহার করত। যার ফলে, সকল লোক তাদের সাথে মিশতে পারত না। আর এসব ছিন্নমূল মানুষদেরই মূলত ব্যবহার করা হয়েছে ভিভো এবং অপো বিক্রির জন্য।

এছাড়া স্যামসাংয়ের ক্ষেত্রে তাদের আরো একটি বিপর্যয়ের কারণ হলো, Samsung Galaxy Note 7 মডেলের ফোনটিতে আগুন ধরার ঘটনা। স্যামসাং সেগুলি ঠিক করার জন্য বিক্রি করা ইউনিটগুলোকে প্রত্যাহার করে। কিন্তু তারপরেও এটি গ্রাহকদের মাঝে অনাস্থা সৃষ্টি করে।

মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে এই দেশটি তিনটি স্বতন্ত্র বাজারে পরিনণত হয়। কিন্তু, স্যামসাং এক্ষেত্রে এসব বাজার ব্যবস্থার সাথে খাপ খাইয়ে নেয়নি। এমনকি, স্যামসাং শাওমির সাথে অনলাইনে দামের যুদ্ধে লড়াই করতে ইচ্ছুক ছিল না। আর তাদের ফোনগুলো যথেষ্ট প্রতিযোগিতামূলক ছিল না এবং এ ফোনগুলো বড় শহরগুলোতে প্রিমিয়াম বা পছন্দসই না।

একজন আইটি বিষয়ক লেখক Ham Young-mim বলেন, “চীনা লোকেরা মনে করে না যে, স্যামসাং কাস্টমারদের একটি প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা প্রদান করতে পারে। বরং এর পরিবর্তে তারা সর্বশেষ অ্যান্ড্রয়েড ভার্সনের স্মার্টফোন প্রযুক্তির অভিজ্ঞতা নেওয়ার জন্য Huawei এর স্মার্ট ফোন কেনে। “

আর তিনি বলেন, “স্যামসাং ২০১৯ সালের শুরুর দিকে তাদের আসন্ন প্রিমিয়াম স্মার্টফোন Samsung S10-এ একটি In-Display ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার আনবে বলে জানায়। কিন্তু, ইতিমধ্যেই চীনা স্মার্টফোন নির্মাতারা এই ফিচারটি স্মার্টফোনে চালু করেছিল। “

এছাড়াও, স্যামসাং এর আগে চীনের স্মার্টফোন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রথম ভাঁজ-যোগ্য স্মার্টফোন বাজারে নিয়ে আসে। আর যেকারণে চীনের জনগণ তাদের দেশের কোম্পানিগুলোর প্রতি আরও আকৃষ্ট হয়। চীনে স্মার্টফোন নির্মাতাদের উত্থান স্যামসাংকে বিশ্বের বৃহত্তম স্মার্টফোন নির্মাতার মর্যাদা থেকে নিচে নামিয়ে দেয়।

চায়নায় Samsung এর পতনের পেছনে আরও যত ভুল

চায়নায় Samsung এর পতনের পেছনে আরও যত ভুল

চীনের বাজার থেকে স্যামসাং নিজেদের আধিপত্য হারানোর পর, বর্তমানে বাজারে অন্যান্য ব্র্যান্ড গুলো ৮৩% এর মালিক। তবে Samsung এর ক্ষেত্রে এই বাজার হারানোর পেছনে আরো অনেক কারণ ছিল। এগুলোর মধ্যে যেমন: চীন থেকে গুগলের বিদায়।

গুগল ২০১০ সালের শুরুতে চীন থেকে বেরিয়ে আসে এবং চীনা গ্রাহকদের জন্য গুগল প্লে স্টোর নিষিদ্ধ করে। যেখানে স্যামসাংয়ের অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলো ব্যাপকভাবে গুগলের অ্যাপ স্টোরের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু, গ্রাহকদের কথা বিবেচনা করে স্যামসাং কখনও একটি বিকল্প অ্যাপ স্টোর তৈরি করার চেষ্টা করেনি।

এছাড়া আপনি খুব সম্ভবত জানেন যে, Samsung Note 7s ফোনটিতে বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটেছিল। যা স্যামসাং এর সুনাম অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছে। এই ঘটনাটি চীন জুড়ে স্যামসাংয়ের আরো অনাস্থা তৈরি করে, যখন তারা চীনের বাজার থেকে এগুলো সরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। যে বিষয়টি চীনা গ্রাহকদের আরো অনেক বেশি ক্ষুব্ধ করেছিল। যদিও প্রচুর চীনা গ্রাহকদের চাপের মুখে পরবর্তীতে সমস্ত ফোন গুলো প্রত্যাহার করতে হয়েছিল, কিন্তু তাদের সুনাম-গত ক্ষতি আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।

অবশেষে শেষ পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানটি চীন থেকে একেবারে চূর্ণ হয়ে যায়। যদিও বর্তমানে স্যামসাং চীনে এক পার্সেন্ট এরও কম মার্কেট শেয়ার ধরে রেখেছে। তারমানে, বর্তমানে তারা সেখানে অন্তত ১ মিলিয়ন ইউনিট ফোন বিক্রি করে। চায়নায় বর্তমানে স্যামসাং সম্পূর্ণ সিরিজের ফোনগুলো, অর্থাৎ উচ্চতর ইউনিটগুলোতে ফোকাস করছে।

তাই বর্তমানে প্রতি বছর এক মিলিয়ন ইউনিট ফোন বিক্রি হওয়া অতটা খারাপ খবর নয়। স্যামসাং চাইলে, তারা আবার পুনরায় চীনে আগের মত প্রত্যাবর্তন করতে পারে। তবে, এটি সত্যিই অনেক কঠিন প্রচেষ্টা হবে এবং তা হবে অনেক ব্যয়বহুল। Samsung সম্পর্কে আমরা যে খ্যাতি জানি, সেটি ইউরোপ বা আমেরিকায় উচ্চ স্তরের ফোনগুলোর জন্য। আর অন্যদিকে চীনের গ্রাহকরা এগুলোর সাথে পরিচিত না।

আমি মনে করি, স্যামসাং তাদের হারিয়ে যাওয়া খ্যাতি পুনরুদ্ধার করার পরিবর্তে, তারা বর্তমানে বৈশ্বিক বিভিন্ন বাজারে বেশি ফোকাস করছে। আর আমি মনে করি, তারা এই দেশে যে কঠিন পরাজয় ভোগ করেছে, তা অন্তত সঠিক সময়ে তাদের সঠিক শিক্ষা দিয়েছে। আর অন্যদিকে, চীনের বাজার দখল করা সেসব কোম্পানিগুলো সেই দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে ও মনোযোগ দিয়েছে।

বর্তমানে ইন্ডিয়ার দিকে তাকালে, সেখানে স্যামসাং তাদের স্থান প্রথম করে নিয়েছে। যেখানে চীন থেকে শিক্ষা নিয়ে, ‌অন্যান্য ব্র্যান্ডকে পেছনে ফেলে তারা সবার শীর্ষে অবস্থান করছে। আর শাওমি, অপো, ভিভো ওয়ান-প্লাস এর মত পেছনে ফেলতে তারা বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করে। এগুলোর মধ্যে বিশেষ করে লোকালাইজেশন এর পেছনে তারা বেশি ফোকাস করেছে। যেমন: এসব দেশের লোকদের দিয়ে কাস্টমার কেয়ার পরিচালনা, ইন্ডিয়াকে লক্ষ্য করে স্পেসিফিক সিরিজ বাজারে নিয়ে আসে।

এক্ষেত্রে, স্যামসাং এসব মার্কেটে লোকাল চাহিদার কথা মাথায় রেখে তাদের ফোনগুলো ডিজাইন করতে থাকে এবং সে অনুযায়ী বিক্রি করে। তারা পুরো দেশ জুড়ে অফলাইন ডিস্ট্রিবিউশন এবং সাপোর্ট সেন্টার চালু করে অন্যান্য ব্র্যান্ড গুলির সাথে প্রতিযোগিতা শুরু করে। এসবের প্রতিযোগী ব্রান্ড গুলোর মধ্যে যেমন: Oppo এবং Vivo। আর বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় সহ বিশ্বের প্রত্যেকটি দেশের স্যামসাং একটি জনপ্রিয় মোবাইল ব্র্যান্ড। বর্তমানের স্যামসাং বিশ্বের সর্বাধিক বিক্রিত মোবাইল ফোনের তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছে।

২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী, স্যামসাং ইউরোপের মার্কেট শেয়ার এর মত ৩২ শতাংশ দখল করে রয়েছে। যেখানে, ২০২০ সালে তাদের বিক্রির শেয়ার ছিল ৩০ শতাংশ।

তো বন্ধুরা, এই ছিল চীনের স্যামসাংয়ের উত্থান এবং পতনের গল্প। আশা করছি, টিউনটি আপনাদের কাছে অনেক ভালো লেগেছে।

শেষ কথা

স্যামসাং চীনে একসময় অনেক জনপ্রিয় ব্র্যান্ড এবং সেখানকার বেশিরভাগ মার্কেট শেয়ার দখল করে থাকলেও, এক সময় তাদের পতন হয়েছে। বর্তমানে সেখানে অন্যান্য ব্র্যান্ডগুলো আধিপত্য বিস্তার করছে। কিন্তু, স্যামসাং চীন থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমানে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোতে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে কাজ করছে। আর এসব ক্ষেত্রে তারা অনেক সফল হয়েছে এবং স্যামসাং বিশ্বের নাম্বার ওয়ান স্মার্টফোন নির্মাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।



Source link

Leave a Reply