Categories
News

আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপির মহাসমাবেশে খালেদা জিয়ার উপস্থিতির দাবিটি মিথ্যা


সম্প্রতি “আগামী ১০ ই ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশে উপস্থিত থাকবেন বেগম খালেদা জিয়া” শীর্ষক দাবিতে একটি তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে
পোস্টগুলোর আর্কাইভ ভার্সন দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আগামী ১০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার বিএনপির মহা সমাবেশে অংশগ্রহণ করার তথ্যটি সঠিক নয় বরং কোনো প্রকার তথ্যসূত্র ছাড়াই ভিত্তিহীনভাবে উক্ত তথ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।

কি-ওয়ার্ড অনুসন্ধানের মাধ্যমে বেসরকারি টেলিভিশন ‘NTV’ এর ইউটিউব চ্যানেলে ২৮ সেপ্টেম্বর “১০ ডিসেম্বর ঢাকায় গণসমাবেশের ঘোষণা বিএনপির” শীর্ষক শিরোনামে প্রচারিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। 

প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, চলমান আন্দোলনে নেতাকর্মীদের মৃত্যুর প্রতিবাদ, খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে ৮ অক্টোবর হতে সারাদেশে বিভাগীয় গণসমাবেশ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। যার ধারাবাহিকতায় ১০ অক্টোবর ঢাকায় গণসমাবেশ হবে। তবে প্রতিবেদনের কোথাও তিনি এই গণসমাবেশে খালেদা জিয়ার উপস্থিত থাকার বিষয়ে কিছু জানাননি।

দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খানের সঙ্গে যোগাযোগ করে রিউমর স্ক্যানার টিম।

তিনি রিউমর স্ক্যানারকে বলেন,

“প্রশ্নই হয় না। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বাসায় চিকিৎসাধীন। এগুলো অসৎ উদ্দেশ্য প্রচারণা করে যাতে করে নিজেদের মধ্যে বিভ্রান্ত তৈরি করা যায়। এর থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করছি।”

~ শায়রুল কবির খান

পাশাপাশি অনুসন্ধানে মূলধারার জাতীয় দৈনিক যুগান্তরে চলতি বছরের ১১ সেপ্টেম্বর “খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি চেয়ে আবেদন” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, খালেদা জিয়ার বর্তমান মুক্তির মেয়াদ ২৩ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে তার পরিবার। এর আগে গত ২৩ মার্চ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে আগের দুটি শর্তে মুক্তির মেয়াদ ৬ মাস বাড়ানো হয়। এরপর মুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

পরবর্তীতে মূলধারার অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘Jagonews24’ এ গত ১৯ সেপ্টেম্বর “খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়লো, প্রজ্ঞাপন জারি” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দণ্ডাদেশ স্থগিত করে আগের দুটি শর্তেই মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষাসেবা বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ‘আগের মতো খালেদা জিয়া ঢাকার নিজ বাসায় থেকে তার চিকিৎসা নেবেন এবং এই সময়ে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না’ দুটি শর্তে দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

অর্থাৎ খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, খালেদা জিয়া নিজ বাসায় চিকিৎসা নিবেন। এই সময়ে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।

মূলত, গত ২৮ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। উক্ত ঘোষণায় কোথাও তিনি এই সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া উপস্থিত থাকবেন এমন কোনো তথ্য দেননি। তবে এই সমাবেশে বেগম খালেদা জিয়া উপস্থিত থাকবেন দাবিতে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি সত্য নয় বলে রিউমর স্ক্যানারকে নিশ্চিত করেন।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে খালেদা জিয়া কারাবন্দি ছিলেন। নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত রয়েছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বকশীবাজার আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালত। এরপর ৩০ অক্টোবর এই মামলায় আপিলে তার আরও পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট। এছাড়া একই বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন একই আদালত। রায়ে সাত বছরের কারাদণ্ড ছাড়াও খালেদা জিয়াকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

সুতরাং, আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশে বেগম খালেদা জিয়া উপস্থিত থাকবেন শীর্ষক দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র



Source link

Leave a Reply