Categories
News

১১১টি দেশকে পেছনে ফেলে নয়, তাকরিম তৃতীয় হয়েছেন নিজ বিভাগে


সম্প্রতি “সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১১১টি দেশের মধ্যে/ দেশের সাথে/ দেশকে পেছনে ফেলে/ দেশকে হারিয়ে বাংলাদেশের হাফেজ সালেহ আহমদ তাকরিম তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন” শীর্ষক দাবিতে একটি তথ্য বাংলাদেশের মূলধারার গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ও ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়েছে। 

মূলধারার গণমাধ্যমে এ বিষয়ে  প্রচারিত সংবাদগুলো দেখুনঃ প্রথমআলো, ডেইলি স্টার, যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন, এনটিভি, আরটিভি, চ্যানেল ২৪, সময় টিভি, বাংলা ভিশন, ইনকিলাব, বাংলা ট্রিবিউন, জাগোনিউজ২৪, রাইজিং বিডি, আমাদের সময়.কম, নয়াদিগন্ত, ইৃ্ৃত্তেফাক, সময়ের আলো, ঢাকা পোস্ট, কালের কণ্ঠ, যমুনা টিভি, মানবজমিন, সমকাল, আলোকিত বাংলাদেশ, ভোরের পাতা, দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস, Bangladesh Today, Bd24live, Daily Bangladesh, নয়া শতাব্দী, ঢাকা মেইল, আজকের পত্রিকা, নিউজ২৪। 

বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও গণমাধ্যমের ফেসবুক পেইজে প্রচারিত এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানেএখানে, এখানে, এখানে

পোস্টগুলোর আর্কাইভ ভার্সন দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে  এখানেএখানে, এখানে। 

ইউটিউবে প্রচারিত কিছু ভিডিও দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানেএখানে

ফ্যাক্টচেক 

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, সৌদি আরবে বাদশাহ আব্দুল আজিজ কোরআন প্রতিযোগিতার ৪২ তম আসরে বাংলাদেশি হাফেজ সালেহ আহমেদ তাকরিম ১১১ দেশের ১৫৩ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে বা হারিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেননি বরং উক্ত কোরআন প্রতিযোগিতায় ১১১ টি দেশের ১৫৩ জন প্রতিযোগী ৫ টি বিভাগে বিভক্ত হয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। এবং প্রতিটি বিভাগে আলাদাভাবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঘোষণা করা হয়েছে। তার মধ্যে তাকরিম একটি বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন।

কি-ওয়ার্ড অনুসন্ধানের মাধ্যমে সৌদি আরবের  ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে “Amir of Makkah Al-Mukarramah region sponsors the closing ceremony of the 42nd King Abdulaziz International Competition.. tomorrow (আরবি থেকে অনুদিত)” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। 

এই প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, হিজরি ১৪৪৪ সালের সফর মাসের ১৪ থেকে ১৬ তারিখের মধ্যে  (১০ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর) কোরআন প্রতিযোগিতাটির প্রাথমিক বাছাইপর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১১১ টি দেশের ১৫৩ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। তার মধ্যে ৯৬ জন চূড়ান্ত পর্বের জন্য মনোনীত হন৷ পুরো প্রতিযোগিতার প্রাইজমানি ২৭ লাখ সৌদি রিয়েল।

পরবর্তীতে ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল টুইটার একাউন্টে বাদশাহ আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতার ৪২ তম আসরের বিজয়ীদের নামের তালিকা খুঁজে পাওয়া যায়। 

তালিকাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রতিযোগিতাটি হয়েছে পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন বিভাগে এবং প্রতিটি বিভাগের জন্য আলাদা আলাদা বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। 

এদের মধ্যে প্রথম বিভাগটি ছিল কিরাতে সাব’আ-সহ সম্পূর্ণ কোরআন, দ্বিতীয় বিভাগটি ছিল তাজবীদ ও তাফসীরসহ সম্পূর্ণ কোরআন, তৃতীয় বিভাগটি ছিল তাজবীদসহ সম্পূর্ণ কোরআন, চতুর্থ বিভাগটি ছিল শুদ্ধ উচ্চারণসহ পনেরো পারা মুখস্ত কোরআন ও সর্বশেষ ও পঞ্চম বিভাগটি শুদ্ধ উচ্চারণসহ পাঁচ পারা মুখস্ত কোরআন (এই বিভাগে ওআইসির সদস্য নয় এমন দেশের প্রতিযোগীরা অংশ নেয়)। 

এই পাঁচ বিভাগের মধ্যে সালেহ আহমেদ তাকরিম  চতুর্থ বিভাগ অর্থাৎ শুদ্ধ উচ্চারণসহ পনেরো পারা মুখস্ত কোরআন বিভাগে তৃতীয় হয়েছেন। 

এই বিভাগ থেকে প্রথম স্থান অর্জন করেন লিবিয়ার প্রতিযোগী যিয়াদ মোহাম্মদ খলিল হাবিশ। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন কেনিয়ার প্রতিযোগী আব্দুর রহমান মুসা আব্দুল্লাহ।

প্রথম বিভাগঃ প্রতিযোগিতায় প্রথম বিভাগ থেকে প্রথম হয়েছেন মিসরের প্রতিযোগী বেলাল আস-সাইয়েদ মোহাম্মদ মোহাম্মদ আল সানহুরি, দ্বিতীয় হয়েছেন সুদানের প্রতিযোগী এবং তৃতীয় হয়েছেন সৌদি আরবের প্রতিযোগী মোহাম্মদ বিন ইবরাহিম আব্দুস সালাম ইদরিস। 

দ্বিতীয় বিভাগঃ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় বিভাগ থেকে প্রথম হয়েছেন কিরগিজস্তানের প্রতিযোগী মোহাম্মদ আলি আমারুফ। দ্বিতীয় হয়েছেন সৌদি আরবের প্রতিযোগী খালিদ বিন সুলাইমান সালেহ আল বারাকানি এবং তৃতীয় হয়েছেন বাহরাইনের প্রতিযোগী আব্দুর রহামান বাদী মুহাহহির মুকাররিদ কালিব। 

তৃতীয় বিভাগঃ প্রতিযোগিতায় তৃতীয় বিভাগ থেকে প্রথম স্থান হয়েছেন মরক্কোর প্রতিযোগী আহমাদ আশারি, দ্বিতীয় হয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রতিযোগী জাহরান আওজান এবং তৃতীয় হয়েছেন গাম্বিয়ার প্রতিযোগী আব্দুল্লাহ আনজাঈ।

পঞ্চম বিভাগঃ প্রতিযোগিতায় পঞ্চম বিভাগ থেকে প্রথম হয়েছেন থাইল্যান্ডের প্রতিযোগী আহমাদ সামুহ, দ্বিতীয় হয়েছেন মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের প্রতিযোগী ইদরিস মোহাম্মদ জেইন এবং তৃতীয় হয়েছেন জার্মানির প্রতিযোগী আমিন কানান।

অর্থাৎ, সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত বাদশাহ আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার ৪২ তম আসরে সালেহ আহমেদ তাকরিম প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ১৫৩ জন প্রতিযোগীর মধ্যে নয় বরং প্রতিযোগিতার চতুর্থ বিভাগ শুদ্ধ উচ্চারণসহ পনেরো পারা মুখস্ত কোরআন বিভাগের প্রতিযোগীদের মধ্যে তৃতীয় হয়েছেন।

মূলত, হিজরি ১৪৪৪ সালের সফর মাসের ১৪ থেকে ১৬ তারিখ (১০ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর) বিশ্বের ১১১ টি দেশের ১৫৩ জন প্রতিযোগীকে নিয়ে পাঁচটি বিভাগে বাদশাহ আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতার ৪২ তম আসরের প্রাথমিক বাছাইপর্ব

অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে সালেহ আহমেদ তাকরিম ১৫ পারা মুখস্ত বিভাগ থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন৷ পাঁচ বিভাগের প্রতিযোগিতায় প্রাথমিক বাছাইয়ে ৯৬ জন চূড়ান্ত পর্বের জন্য মনোনীত হন৷ প্রতিযোগিতার ফাইনাল শেষে গত ২১ সেপ্টেম্বর পাঁচটি বিভাগের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। প্রতিটি বিভাগেই পৃথক পৃথকভাবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। বিজয়ীদের মধ্যে সালেহ আহমেদ তাকরিম শুদ্ধ উচ্চারণসহ ১৫ পারা মুখস্ত বিভাগের প্রতিযোগীদের মধ্যে তৃতীয় স্থান লাভ করেন। কিন্তু বাংলাদেশের মূলধারার গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই বিষয়টিকেই দাবি করা হচ্ছে যে, সালেহ আহমেদ তাকরিম সৌদি আরবে কুরআন প্রতিযোগিতায় ১৫৩ জন প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে তৃতীয় হয়েছেন। 

উল্লেখ্য, আলোচিত কোরআন প্রতিযোগিতায় স্ব স্ব বিভাগ ভিত্তিক কতজন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেছেন সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য সৌদি ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে উল্লেখ নেই। তবে উক্ত ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, আলোচিত কোরআন প্রতিযোগিতায় ১১১ দেশের ১৫৩ জন প্রতিযোগী ৫ টি বিভাগে বিভক্ত হয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। তাই এটি নিশ্চিত যে বাংলাদেশি হাফেজ তাকরিম ১১১ টি দেশের ১৫৩ জন প্রতিযোগীর সাথে প্রতিযোগিতা করে তৃতীয় হননি বরং তিনি তার বিভাগে তৃতীয় হয়েছেন। 

সুতরাং, সৌদি আরবে কুরআন প্রতিযোগিতায় ১১১ টি দেশের ১৫৩ জন প্রতিযোগীকে হারিয়ে বা পেছনে ফেলে বাংলাদেশের সালেহ আহমেদ তাকরিম তৃতীয় হওয়ার বিষয়টি সত্য নয়; এটি আংশিক মিথ্যা।

তথ্যসূত্র





Source link

Leave a Reply