Categories
Tips and Tricks

৭ জন টেক নির্বাহী – যারা তাদের সন্তানদের প্রযুক্তি-মুক্ত এবং স্ক্রিন টাইমকে গুরুত্ব সহকারে লিমিট করে বড় করে | Techtunes


আপনাকে যদি প্রথমেই প্রশ্ন করি যে, আপনার হাতে স্মার্টফোন আসার পর থেকে আপনি কতটা এটি থেকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছেন? অর্থাৎ, আপনার কাছে স্মার্টফোন এবং ডিজিটাল ডিভাইস থাকলেও, আপনি এটিকে গুরুত্ব না দিয়ে বাস্তব জীবনের অন্যান্য কাজগুলো করেছেন? স্বাভাবিকভাবেই, আপনাদের মধ্যে সকলেরই হয়তোবা উত্তর হবে যে, আপনি তারপর থেকেই মোবাইলের প্রতি অনেক বেশি আকৃষ্ট হয়ে গিয়েছেন।

মূল কথা হলো যে, আমরা মোবাইল কম্পিউটার বা অন্য কোন ডিজিটাল ডিভাইস ছাড়া এক মুহূর্ত ও চলতে পারি না। এসব প্রযুক্তি বর্তমানে ড্রাগ আসক্তির মত হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে একটি পরিবারের ছোট শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাই এই নেশায় ডুব দিয়েছে। ডিজিটাল ডিভাইস গুলোর আসক্তি ড্রাগ আসক্তির চাইতেও কম বলা যাবে না, কেননা এটিও ড্রাগ আসক্তির মত মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে। হঠাৎ করে কেউ চাইলেই ডিজিটাল ডিভাইস গুলোর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে পারে না।

আমাদের মত সাধারণ পাবলিক একটি মোবাইল বা কম্পিউটার হাতে পেয়ে ইন্টারনেটে সারাদিন ডুবে থাকলেও, বড় বড় টেক নির্বাহীরা কিন্তু এই বিষয়ে অনেকটাই সচেতন। তারা আমাদের কাছে বিভিন্ন প্রযুক্তি পণ্য বিক্রি করলেও, নিজেরা তাদের পরিবারের লোকজনদেরকে এর প্রভাব থেকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করে। আপনি আপনার সন্তানের কান্নার থামানোর জন্য তার সামনে ল্যাপটপ চালু করে দিলেও, এসব প্রযুক্তি নির্বাহীরা কিন্তু তেমনটি করতে দেয়নি। তারা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাদের সন্তানদের এসব স্মার্ট ডিভাইস গুলো ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি।

এই ধরুন, মাইক্রোসফটের সহ প্রতিষ্ঠা বিল গেটস এবং তার স্ত্রী মেন্ডিলা তাদের সন্তানদের চৌদ্দ বছর বয়স পর্যন্ত সেলফোন রাখার অনুমতি দেয়নি।

কয়েকজন প্রযুক্তি নির্বাহী, যারা সন্তানদের প্রযুক্তি থেকে দূরে রাখার পরামর্শ দেয়

কয়েকজন প্রযুক্তি নির্বাহী

বর্তমানে আমরা এমন একটি বিশ্বে বসবাস করছি, যেখানে এক মুহূর্ত ও প্রযুক্তি ছাড়া চলে না এবং আমরা প্রত্যেকটি মুহূর্ত প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। আর এই সময়ে প্রাপ্তবয়স্কদের পক্ষে তাদের বাচ্চাদের এই সীমানা থেকে দূরে রাখা অনেক কঠিন।

২০১৯ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রকাশিত একটি গাইডলাইনে বলা হয় যে, পাঁচ বছর বা তার কম বয়সী বাচ্চাদের দিনে এক ঘণ্টা বা তার বেশি স্ক্রিন টাইম করা উচিত নয়। অর্থাৎ, এই বয়সের বাচ্চাদেরকে এতটা সময় কোন ডিজিটাল ডিভাইসের স্ক্রিনের সামনে থাকা উচিত নয়। এতে করে সে সমস্ত বাচ্চাদের স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। তাহলে, কিভাবে সেসব বাচ্চাদেরকে এসব প্রযুক্তি পণ্য থেকে দূরে রাখা যায়, এটি নিয়ে অনেক বিতর্ক এবং আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

  • শিশুদের উপর প্রযুক্তির প্রভাব এবং দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন টাইম এর বিষয়টি নিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞ এবং অভিভাবক দ্বারা ব্যাপকভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
  • স্টিভ জবস এবং বিল গেটস এর মত বড় বড় টেক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীরা তাদের বাচ্চাদের বেশিরভাগ সময় প্রযুক্তি মুক্ত ভাবে বড় করেছেন।
  • গুগলের সিইও Sundar Pichai এবং স্ন্যাপচ্যাটের সিইও Evan Spiegel এর মত অন্যান্য কর্মকর্তারা ও সপ্তাহ জুড়ে তাদের সন্তানদের স্ক্রিন-টাইম কে কঠোরভাবে লিমিট করে।
  • সেই সাথে বিশ্বের সবচাইতে উল্লেখযোগ্য টেক নির্বাহীদের মধ্যে সাতজন কিভাবে তাদের সন্তানদের প্রযুক্তি আসক্তি লিমিট করে, তা এই টিউনে আলোচনা করা হয়েছে।

আর অনেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীরা ও নিজেদের মস্তিষ্কের বিকাশের উপর অতিরিক্ত স্ক্রিন সময়ের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এমনকি বিল গেটস এবং স্টিভ জবস এর মত সকল প্রযুক্তি নির্বাহীরা তাদের বাচ্চাদের বড় করার সময়, যতটা সম্ভব তাদের প্রযুক্তি ব্যবহারের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছিল। এ বিষয়ে তারা বলে যে, তারা তাদের সন্তানদের বড় করার সময়, প্রযুক্তির উপর এবং তাদের বাচ্চাদের ডিজিটাল ডিভাইসের পর্দার সামনে খুব বেশি সময় না কাটাতে সতর্ক করেছেন।

গুগলের সুন্দর পিচাইরের মতো অন্যান্য সিইওরা তাদের বাচ্চাদেরকে বাড়িতে প্রযুক্তি পণ্য ব্যবহারের উপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে থাকে। আজকের এই টিউনে আলোচনা করা হয়েছে যে, কিভাবে এসব টেক এক্সিকিউটিভ রা তাদের সন্তানদেরকে খাবার টেবিল থেকে শুরু করে সকল জায়গায় ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে এবং কিভাবে বিনা প্রযুক্তিতে তাদেরকে বড় করে।

বিল গেটসের সন্তানদের সেলফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

আপনি হয়তোবা শুনে আশ্চর্য হবেন যে, microsoft এর সহ প্রতিষ্ঠাতার বিল গেটস এবং তার স্ত্রী মেন্ডিলা তাদের সন্তানদের চৌদ্দ বছর বয়স পর্যন্ত কোন সেলফোন ব্যবহার করার অনুমতি দেননি। এমনকি তাদেরকে যখন সেলফোন দেওয়া হয়, তারপরেও বিল গেটস এবং মেন্ডিলা তাদের সন্তানদের সেলফোন ব্যবহার মারাত্মকভাবে সীমিত করে। বিল গেটস ২০১৭ সালে বলেছিলেন যে, তার সন্তানদের Screen Time অনেক Limited এবং তাদের একটি নির্দিষ্ট Bedtime hour রয়েছে, যার পরে সমস্ত প্রযুক্তি ব্যবহার লিমিট।

আর বিল গেটস বলেন যে, “আমরা প্রায়ই একটি সময় সেট করি, তারপরে কোন স্ক্রিন টাইম থাকবে না। যাতে করে তারা নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে পারে। “

এই বিষয়ে বিল গেটস বলেছেন যে, তিনি যখন বুঝতে পারে তার বড় মেয়ে অনেক বেশি ভিডিও গেম খেলছে, তখন তিনি তার সন্তানদের প্রযুক্তি ব্যবহারের উপর কঠোর এই সীমাবদ্ধতাটি আরোপ করে। এছাড়াও তিনি বলেন যে, যদিও এসব প্রযুক্তি-পণ্য গুলো আমাদের অনেক কাজকে সহজ করে দেয় এবং এবং বিভিন্ন কাজের জন্য এসব টুল গুলোর সুবিধা অনস্বীকার্য। তবে, এটি স্বীকার করা গুরুত্বপূর্ণ যে, সব জিনিসগুলোর অতিরিক্ত ব্যবহার ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এছাড়াও তিনি আরো বলেন যে, “আপনি সর্বদা দেখছেন যে, এটি আমাদের হোম-ওয়ার্ক এবং বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য কিভাবে একটি দুর্দান্ত উপায় হয়েছে – আর যেখানে আমাদের ক্ষেত্রে এটির ব্যবহার অনেক অতিরিক্ত হয়ে গেছে। ” যাইহোক, বিল গেটস আমাদের অতিরিক্ত প্রযুক্তি পণ্যগুলো ব্যবহার করার বিষয়ে সতর্ক করছেন এবং তিনি এটি ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরেন।

গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই এর মধ্যম স্কুল বয়সী ছেলেদের কোন সেলফোন নেই

অন্যান্যদের মত Google এর সিইও সুন্দর পিচাই ও তারপরিবারের সদস্যদের স্ক্রিন টাইম সীমিত করার চেষ্টা করেন।

২০১৭ সালে গুগলের সিইও Sundar Pichai নিউইয়র্ক টাইমসকে একবার বলেছিলেন যে, তিনি ইচ্ছাকৃত ভাবে তারপরিবারের সদস্যদের যৌথ টিভি স্ক্রিন টাইম সীমিত করার চেষ্টা করেন।

এ ছাড়াও তিনি বলেন যে, আমাদের বাড়িতে টেলিভিশন সহজে অ্যাক্সেস যোগ্য নয়, যাতে করে আপনার টিভি দেখতে যাওয়ার আগে “Activation energy” থাকে। ” আমি সত্যিই এর বিরোধিতা করছি, কারণ আমি দেখি যে আমার বাচ্চারা এসব থেকে কী শিখে। “

আর বাচ্চারা সেসব প্রযুক্তি-পণ্য গুলো কতটা সময় ধরে ব্যবহার করছে তা মনিটর করার পাশাপাশি, তিনি তার নিজের সেলফোন এবং কম্পিউটার ব্যবহার কমানোর ও চেষ্টা করেন।

আমরা ইন্টারনেট ব্যবহার করার অংশ হিসেবে প্রতিনিয়ত যে গুগল এবং ইউটিউবে পড়ে থাকে, সেই কোম্পানির সিইও নিজেই তার Screen Time কমানোর চেষ্টা করে। আর অন্যদিকে, আমরা প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল এবং কম্পিউটারের সামনে পড়ে থাকি। যদিও আমাদের মনিটরের সামনে বেশি সময় থাকার বিষয়টি যদি কাজের অংশ হয়, তবে এতে এমন কোন সমস্যা নেই। তবে, আমরা দিনের বেশিরভাগ যে সময়টি স্ক্রিনের সামনে থাকি, এটি মূলত অহেতুক কাজে ব্যয় হয়। যেমন: আমরা হয়তোবা ভিডিও গেম খেলি, গান শুনি কিংবা সারাদিন ফেসবুক ব্রাউজ করি।

স্টিভ জব এর পরিবারের সদস্যদের প্রযুক্তি পণ্য ব্যবহার

আপনার হয়তোবা সবাই অ্যাপেলের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস এর নাম শুনেছেন, যদিও বর্তমানে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। কিন্তু, অ্যাপল ব্র্যান্ডের কারণে তিনি সবার মাঝে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

স্টিভ জবসের পরিবারে তাদের রাতের খাবারের সময়টি সন্তানদের সাথে মুখোমুখি কথোপকথনের জন্য রিজার্ভ বা সংরক্ষণ করা ছিল। যার অর্থ হল যে, এ সময় কোন আইপ্যাড বা iphone তাদের চোখে পড়েনি। স্টিভ জবস ডিনারে পরিবারের লোকদের সাথে সরাসরি কথোপকথন করতেন।

Walter Isaacson, স্টিভ জবস এর লেখক ২০১৪ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমস কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে, জবস পরিবারটি একটি প্রযুক্তি মুক্ত পরিবার ছিল, যদিও তিনি সিলিকন ভ্যালির অন্যতম ইতিহাসের সেরা একজন প্রযুক্তি নির্বাহী ছিল।

আইজ্যাকের মতে, বিশেষ করে ফ্যামিলি ডিনারের সময় অ্যাপেলের প্রয়াত সিইও স্টিভ জবসের জন্য একটি বিশেষ সময় ছিল। কারণ তারা এই সময় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা এবং তার বাচ্চাদের সাথে আলোচনা করার একটি অন্যতম সময় ছিল।

এছাড়াও তিনি নেওয়ার টাইমস কে আরো বলেন যে, “প্রতি সন্ধ্যায় স্টিভ জবস তাদের রান্নাঘরের বড় লম্বা টেবিলে রাতের খাবার খাওয়ার একটি পয়েন্ট তৈরি করে, এবং যেখানে বই, ইতিহাস এবং বিভিন্ন বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে। কেউ কখনো একটি আইপ্যাড বা কম্পিউটার বের করেনি। আর বাচ্চারা ডিভাইসে আসক্ত বলে মনে হয় না। “

এই প্রযুক্তি-মুক্ত পারিবারিক নৈশভোজ ছাড়াও, স্টিভ জবসের বাচ্চারা ২০১০ সালের তাক লাগিয়ে দেওয়া ipad ব্যবহার করেও দেখেনি। তারা এটি ব্যবহার করেনি, জবসের কথা স্মরণ করে। “আমাদের বাচ্চারা বাড়িতে কতটা টেকনোলজি ব্যবহার করে, তা আমরা লিমিট করি। “

মাইক্রোসফটের সিইও Satya Nadella এর সন্তানদের টেকনোলজি ব্যবহারে কঠোরতা

মাইক্রোসফটের সিইও Satya Nadella এবং তার স্ত্রী Anu খুবই কেয়ারফুলি আলোচনা করেন যে, তাদের সন্তানদের কোন সাইটে যেতে দেওয়া হবে এবং সেখানে তারা কত সময় ধরে থাকবে।

Satya Nadella এবং Anu তাদের বাচ্চারা তাদের কম্পিউটারে ঠিক কি করছে, তার রিপোর্ট করতে বলে।

২০১৭ সালের একটি সাক্ষাৎকারে Satya Nadella এবং Anu তাদের সন্তানদের কম্পিউটার ব্যবহারের বিষয়ে সাপ্তাহিকের রিপোর্ট গ্রহণ সহ, তাদের বাচ্চাদের উপর তারা যেভাবে নজর রাখে তা নিয়ে আলোচনা করেছে। এছাড়াও, ‌ মাইক্রোসফটের সিইও এর স্ত্রী Anu বলেন যে, আমাদের বাড়িতে টেকনোলজি বিনোদনের জন্য আলোচনা করা হয়।

তাদের উপরোক্ত সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যায় যে, সন্তানদের মানসিক বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ ভালো করার জন্য শুরুতে যতটা সম্ভব প্রযুক্তি থেকে দূরে রাখতে হবে। ছোট থেকেই যদি কোন একজন বাচ্চা প্রযুক্তির প্রতি আসক্ত বেশি হয়, তবে এটি তার কাছে মাদক বা ড্রাগ আসক্তর মতই হতে পারে। তাই আমাদেরও উচিত হবে যে, নিজেদের সন্তানদের মানসিক বিকাশের জন্য এসব টেক নির্বাহীদের পথ অনুসরণ করা।

Reddit এর সহ প্রতিষ্ঠাতার সন্তানের স্ক্রিন টাইমে সীমাবদ্ধতা

Reddit এর কো-ফাউন্ডার  এবং Tennis Icon Serena Williams বলেছেন যে, তারা তাদের মেয়েদের বয়স বাড়ার সাথে সাথে, তার ডিজিটাল ডিভাইস গুলোর সামনে থেকে যতটা সম্ভব সরানোর পরিকল্পনা করছেন। তাদের মেয়ে বড় হবার সাথে সাথে তার স্ক্রিন টাইম খুবই Highly morning করা হবে।

যদিও, Reddit এর সহ প্রতিষ্ঠাতা Alexis Ohanian এবং Serena Williams এর মেয়ের বয়স মাত্র দুই বছর। কিন্তু, Alexis Ohanian CNBC-কে জানিয়েছে যে, যখন তার সন্তান ডিজিটাল এসব ডিভাইস গুলোর প্রতি কৌতূহলী হয়ে উঠবে, এসব কথা চিন্তা করে তারা ইতিমধ্যেই তাদের সন্তানের ভবিষ্যতের একটি প্ল্যান তৈরি করেছে। আর তিনি বলেন যে, আমার স্ত্রী এবং আমরা দুজনেই জানতে চাই যে, প্রযুক্তিতে লিমিট থাকা কেমন লাগে। “

যাই হোক, উনারা তাদের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা এখন থেকেই চিন্তা করছেন। ভবিষ্যতে তাদের সন্তানদের ডিজিটাল ডিভাইস গুলোর সামনে স্ক্রিন টাইম কেমন হবে এবং বাচ্চাদের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিতে কোন কোন বিষয়ে লিমিট থাকবে, ইত্যাদি এখন থেকেই প্ল্যান করছে। যাতে করে, সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে।

Investor এবং ‘Shark Tank’ star Mark Cuban এর স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ

Investor এবং ‘Shark Tank’ star তার বাড়িতে বিশেষ রাউটার সেটআপ করেছে, যাতে করে তার বাচ্চারা কখন ইন্টারনেট ব্যবহার করছে তা মনিটর করতে পারে। আর যখন তারা তাদের সেট করে দেওয়া স্ক্রিন-টাইম অতিক্রম করে, তখন তাদের সমস্ত এক্টিভিটি গুলো ডাউন করে দেয়া হয়।

Mark Cuban হলো বিলিয়নিয়ার বিনিয়োগকারী এবং Shark Tank তারকা। প্রাথমিকভাবে তিনি তার বাচ্চাদের ডিজিটাল ডিভাইস গুলো ব্যবহার করার জন্য একটি পুরস্কারের সিস্টেম চালু করেছিল। এই পদ্ধতিতে তার বাচ্চারা প্রতি ঘণ্টা পড়ার জন্য দুই ঘণ্টা করে নেটফ্লিক্স ব্যবহার করতে পারবে। আর তার ছেলে প্রায়ই Minecraft সময়ের জন্য গণিতের সমস্যাগুলি এক্সচেঞ্জ করত।

কিন্তু, একবার তার বাচ্চারা এই নিয়ম মেনে চলার বদলে একটি বিকল্প উপায় বের করে ফেলল, যেমন তাদের বন্ধুর নেটফ্লিক্স একাউন্টের পাসওয়ার্ড ধার নেওয়া। যার ফলে, পরবর্তীতে Mark Cuban এ বিষয়ে নতুন একটি পরিকল্পনা করল। আর তা হল, তিনি তার বাড়িতে বিশেষ এক ধরনের রাউটার ইন্সটল করেছেন। যেটির মাধ্যমে তার বাচ্চাদের কার্যকলাপ বন্ধ করার অপশন পাবার পাশাপাশি, তার বাচ্চারা কি অ্যাপ ব্যবহার করছে তা সনাক্ত করতে পারে।

আপনিও যদি আপনার সন্তানদের এভাবে করে স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ করেন, তাহলে ভবিষ্যতে তাদের স্ক্রিন আসক্তি অনেক কমে যাবে। আর আমি আপনাকে পরামর্শ দিবো যে, আপনি আপনার ‍Screen time কমিয়ে আনার পাশাপাশি, আপনার সন্তানদের ও Screen Time কমিয়ে আনার চেষ্টা করবেন। যাতে করে তারা ভবিষ্যতে প্রযুক্তির প্রতি বেশি আসক্ত না হয়ে পড়ে।

Snapchat এর সহ প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও Evan Spiegel এবং Angel Miranda Kerr

স্ন্যাপ চ্যাট এর সহ প্রতিষ্ঠাতায় এবং Angel Miranda Kerr তাদের আট বছর বয়সী সন্তানদের স্ক্রিন টাইম প্রতি সপ্তাহে মাত্র ১.৫ ঘণ্টা সীমাবদ্ধ করেছেন।

Evan Spiegel টিভি ছাড়াই বড় হয়েছেন, শিক্ষার জন্য তিনি তার সীমিত প্রযুক্তির কৃতিত্ব দেন।

আর তিনি বলেন যে, তিনি ছোটবেলায় টিভি না দেখেই বড় হয়েছিলেন এবং এই বিষয়টি তাকে ভালোভাবে পড়তে, নতুন কিছু তৈরি করতে এবং নিজের জন্য চিন্তা করতে বাধ্য করেছিল। তিনি Financial Times কে বলেছিলেন যে, তিনি তার মেয়েকেও একই সুবিধা দিতে চান। যদিও তার মানে এই নয় যে, তিনি তার মেয়েকে প্রযুক্তি থেকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করতে চান। বরং, তিনি তার মেয়েকে অতিরিক্ত সময় ধরে প্রযুক্তির কাছ থেকে দূরে রাখতে চান। যাতে করে, সেও তার মতো হয়ে উঠতে পারে।

এখানে Spiegel অতীতে আরো অভিভাবকদের তাদের বাচ্চাদের স্ক্রিন টাইম পূণঃমূল্যায়ন করার এবং তাদের Screen time আবার বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন।

যাইহোক, এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী নিজের সন্তান এবং অন্যদের সন্তানদের Screen time নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে পরামর্শ দিচ্ছেন। যাতে করে, তারা পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হতে পারে।

শেষ কথা

বর্তমানে আমরা মোবাইল, কম্পিউটার এবং ইন্টারনেটের প্রতি এতটাই আকৃষ্ট হয়ে গিয়েছি যে, আমাদের এটি ছাড়া এক মুহূর্ত না হলেও চলে না। আমরা হয়তোবা দিনের বেশিরভাগ সময়ই স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কাটিয়ে থাকি। আমাদের অবশ্যই এটি মাথায় রাখতে হবে যে, আমরা ঠিকই এসব প্রযুক্তি পণ্যগুলো ব্যবহার করব, কিন্তু এসব প্রযুক্তি পণ্য যেন আমাদেরকে ব্যবহার করতে না পারে।

আজকের এই টিউনে আমি যেসব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের জীবনযাত্রার কথা বললাম, তারা সবাই স্ক্রিন টাইম কমিয়ে আনার পক্ষে বলেছেন। এমনকি তারা তাদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে এটি প্রয়োগ করেন। তাই, আমাদেরও উচিত হবে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ সময় থেকে অপচয় না করা এবং আমাদের বাচ্চাদেরকে ও এটির থেকে রক্ষা করা। ধন্যবাদ, আসসালামু আলাইকুম।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published.