Categories
News

১৯৪৫ সালের পর কঠিন শীতকাল আসার দাবিটি বিভ্রান্তিকর


সম্প্রতি “১৯৪৫ সালের পর এবারই আসছে কঠিন শীতকাল” শীর্ষক শিরোনামে একটি তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে।

ফেসবুকে প্রচারিত এরকম কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে। পোস্টগুলোর আর্কাইভ ভার্সন দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৪৫ সালের পর এ বছর কঠিন শীতকাল আসার দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি বাংলাদেশের নয় বরং ইউরোপে আসন্ন শীতকাল নিয়ে তথ্যটি দিয়েছে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুসিস।

কি ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে, রাশিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম RT News এর ওয়েবসাইটে ২০২২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত “Most difficult winter since 1945 to come – Serbian president” শীর্ষক শিরোনামের একটি সংবাদ পাওয়া যায়। উক্ত সংবাদে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভুসিস বলেন, 

The next six months will be the most difficult period for Europe since the Second World War, due to both the economic and political challenges, Serbian President Alexandar Vucic said on Wednesday.

অর্থাৎ, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে আগামী ছয় মাসে খুবই কঠিন সময় আসতে চলেছে’।

উক্ত বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ভুসিস কঠিন শীতকাল বলতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বর্তমান ইউরোপের সংকটময় অবস্থাকে বুঝিয়েছেন এবং আগামীতে এই সংকটের মাত্রা শীতকালে প্রকট হবে বলে মন্তব্য করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে বিষয়টি ব্যাখ্যা ও কোনোরূপ সোর্স ব্যবহার না করে শুধুমাত্র ‘১৯৪৫ সালের পর এবারই আসছে কঠিন শীতকাল’ দাবিতে প্রচার করায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়াও, সার্বিয়ার গণমাধ্যম Serbian Monitor এ ২০২২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর “Vučić: Coming winter will be the toughest in 70 years” শীর্ষক শিরোনামের একটি সংবাদ পাওয়া যায়। উক্ত সংবাদেও সার্বিয়ান প্রেসিডেন্ট বিগত ৭০ বছরের মধ্যে অন্যতম কঠিন শীতকাল আসছে বলে মন্তব্য করেন। এছাড়াও তিনি বলেন,

According to him, forecasts say that 25 percent of people in the world will not have enough food during the winter, but there will be no such problems in Serbia. He added that the electricity price will not go up for now because nobody (individual consumers and companies) would be able to cope with it.

অর্থাৎ, আসন্ন শীতে পৃথিবীর ২৫ শতাংশ মানুষের কাছে খাদ্যের যথেষ্ট যোগান থাকবে না, এমনকি সার্বিয়াতেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিবে।

সার্বিয়ান প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য নিয়ে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হয়।

মূলত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী সংকটময় পরিস্থিতি অতিক্রান্ত হচ্ছে। ইউরোপে আসন্ন শীতে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লেও যুদ্ধের প্রভাবে এসকল প্রয়োজনীয় দ্রব্যের সংকট দেখা দিবে। এরকম প্রেক্ষাপটে সার্বিয়ান প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভুসিস ১৯৪৫ সালের পর কঠিন শীতকাল আসছে বলে মন্তব্য করেন। কিন্তু বাংলাদেশের বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে তার নাম উল্লেখ না করে কোনোরূপ তথ্যসূত্র ছাড়াই এই মন্তব্যটি প্রচার করা হয়। এতে অনেকেই মনে করে, এবছর বাংলাদেশে শীতে আবহাওয়া বেশ বৈরী থাকতে পারে; যা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে।

সুতরাং, ১৯৪৫ সালের পর এবারই আসছে কঠিন শীতকাল দাবিটি বিভ্রান্তিকর। 

তথ্যসূত্র



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published.