Categories
News

যার জন্য কোনকিছুর সঙ্গে পরামর্শ করতে হয় না


মৌসুম এসে পড়েছে। ঝরা পাতার মৌসুম। বছরের অদ্ভুত সুন্দর একটা সময়। খুব অল্প কয়েকটা দিনের জন্য এ সময়টা আসে। সব গাছের পাতা অল্প কয়েকদিনের জন্য রঙিন হয়ে যায়। পথ চলতে চলতে রঙিন পাতাওয়ালা গাছ দেখতে দেখতে চিরপরিচিত রাস্তাঘাটও খানিকের জন্য অচেনা ঠেকে। তারপর একদিন গাছগুলোকে শুন্য করে দিয়ে সব পাতা ঝরে যায়। পরের বছর আবার পাতায় পাতায় ভরে ওঠার জন্য।

এ সময়টায় করার মতো একটা দারুণ কাজ হচ্ছে ট্রেনে চেপে ঘুরতে যাওয়া। ট্রেনের জানালা দিয়ে রঙিন বাহারি পাতাসমৃদ্ধ গাছগুলো যখন যখন একটা পর একটা পার হয়, তখন সাধারণ ছোটখাটো মানসিক অশান্তির কারণগুলো এমনিতেই ঝরে যায়। তবে খুব বড় যেগুলো, সেগুলো ঝরে না। সেগুলো কখনোই ঝরে না। নিজেদের মতো থেকে যায়। কখনো, হয়তো কোন এক বন্ধ্যা সময়ের বানে, গোপন কুঠুরি থেকে বের হয়ে এসে নিউরণে আঘাত হানে।

বানের জলে ভেসে চলি এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায়। নদীর মতোন এক জীবন। যা পেলে হাসিমুখে ছেড়ে যায় আজকালকার যুবক-যুবতীরা একে অপরের হাত, তা পেয়ে আমি হয়েছি মান্ধাতার আমলের এক আন্ধার বলয়ের আধার। শুধু আঁকড়ে ধরতে চাই। আর তাই বার বার ধাক্কা খাই। জীবন চলে নিজের মতো। মানুষও তাই। কেউ কোথাও থামতে চায় না। মাঝে মাঝে থামার মিথ্যা আশ্বাস দেয়। কিন্তু পছন্দের কোন ধান্দা মাথা তুললেই, সেসব আশ্বাস গিলে খেয়ে উল্টো কথা বের করে মুখ থেকে।

এসবের কারণে জীবনকে ধরে নিয়েছি ভয়ংকর কষ্টের, না পাওয়ার, যখন তখন কুঠারাঘাতে জর্জরিত হওয়ার উপলক্ষ, যেখানে আমার কোন অধিকার নাই। একবার জীবনকে কাছে ডেকে বলেছিলাম, তুমি তো আমারই জীবন, একটু আমার মতো করে চলতে পারো না?

খুব জঘন্য একটা উত্তর দিয়ে বলেছিলো, তোদের মতো যারা ফালতু আবেগকে প্রশ্রয় দিয়ে নিজের গর্ত নিজেই খোঁড়ে, তাদের জন্য এরচেয়ে ভাল কোন বন্দোবস্ত নেই।

আমি জানতে চাই, তাহলে কি করা লাগতো?
জীবন বলে, ফাতরামি করিস না। মনে হয় জানিস না কি করা লাগতো। যখন দেখছিলি তোর সঙ্গে কোন অন্যায় হচ্ছে তখন মায়া না দেখায়ে প্রতিশোধ নেয়া লাগতো। মেরুদন্ডের একটা কাশেরুকায়ও সেই জোর নাই, আবার নাকিকান্না দেখাচ্ছিস?
আমি বললাম, তাহলে তোমায় ধ্বংস করে দিই?
জীবন বললো, সেটাও যদি পারতি তো বুঝতাম। তোর মতো নিষ্কর্মাকে দিয়ে সেটাও যদি হতো! যা যা ম্যালা বকিস নে। মাঝে মধ্যে টুকটাক উচ্ছিষ্টের ভাগ তো এখনও পাচ্ছিস। তাই খেয়ে দুরে গিয়ে মর যা!
আমি বললাম, উচ্ছিষ্ট চাই না।
জীবন বললো, তাহলে রাস্তায় গিয়ে একটা ট্রাকের নিচে চাপা পড় না। কে মানা করেছে?
জানতে চাই, কেন তা করবো, আমার কি দোষ?
প্রচণ্ড অবাক হওয়ার মতো ভান করে জীবন বললো, এতক্ষণ যা বললাম সেসব তো তোর দোষের কথাই বললাম। এখন সারারাত পর এসে জিজ্ঞেস করছিস, সীতা কার বাপ?

বদমেজাজিটার সঙ্গে আর বেশি কথা বাড়ালাম না। জীবনটা জঘন্য। কিছু কিছু দিন একটু বেশিই জঘন্য। অন্যান্য দিন সাধারণ জঘন্য। কিন্তু জঘন্য। এটা আলাদা করে জানার জন্য কোনকিছুর সঙ্গে পরামর্শ করতে হয় না।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published.